ট্রাম্প: হোয়াইট হাউসে শি-এর সঙ্গে ‘সবকিছু’ নিয়ে আলোচনা হবে
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে তিনি ‘প্রায় সবকিছু’ নিয়ে আলোচনা করবেন। রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে বাণিজ্য ও গাড়ি শিল্প ছাড়াও বোয়িং উড়োজাহাজ, ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা পরিস্থিতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা উৎপাদন নিয়ে কথা হবে।

সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প চীনা যানবাহনের ওপর তার প্রশাসনের আরোপিত শুল্কের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং দাবি করেন যে তিনিই মার্কিন বাজারে চীনা গাড়ি প্রবেশ আটকে রেখেছেন। ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমিই তাদের আটকে রেখেছি।’ এ সময় তিনি ইউরোপের পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনা করে বলেন, চীনা গাড়ির কারণে ইউরোপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চীনের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি সব চুক্তিই সফল করতে পারি।’
জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিমানঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি চীনা কোনো প্রতিষ্ঠান ইরানকে সরবরাহ করেছে—এমন খবর নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়, চীনও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করি, তারাও তাই করে। মানুষ যখন বলে চীন আমাদের ওপর নজরদারি করছে, তখন আমি বলি আপনারা ঠিকই বলছেন, তবে আমরাও তাদের ওপর নজরদারি করি।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারে হামলা না চালাতে অনুরোধ করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এসব স্থাপনায় হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিষয়ে আমার সমস্যা হলো... ডিজেল তেল আসে রাশিয়া থেকে।’ তিনি আরও যোগ করেন, রাশিয়ার কারখানাগুলোতে ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি পরিস্থিতিটিকে ‘বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর একটি বিষয়’ বলে অভিহিত করেন এবং সংঘাতের তীব্রতা কমানোর ওপর জোর দেন। অন্যান্য সংঘাতের তুলনায় ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভূমিকার জন্য সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের প্রশংসা করেন। সফল আলোচনার উদাহরণ হিসেবে তিনি গাজা সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে গাজার দিকে তাকান। দেখুন যে আমরা সব জিম্মিকে ফিরিয়ে এনেছি।’
তিনি বলেন, গাজায় সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং দাবি করেন হামাস এখন তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে ইচ্ছুক। মার্কিন আলোচক দলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারা অবিশ্বাস্য কাজ করেছে। এই কাজ অন্য কেউ করতে পারত না।’
ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনকে উল্লেখযোগ্য সামরিক সহায়তা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন দ্রুত তাদের অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন করছে। প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি প্যাট্রিয়ট তৈরি করছি।’
তিনি জানান, নতুন উৎপাদন কারখানা তৈরি করা হচ্ছে এবং মার্কিন নির্মাতারা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও টমাহক মিসাইলসহ অন্যান্য অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অস্ত্রের মজুত রয়েছে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কিছু যুদ্ধাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যেই ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হয়েছে।
লেজার অস্ত্র এবং আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবস্থাপনাসহ উদীয়মান সামরিক প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার তুলনায় লেজার অস্ত্র ভবিষ্যতে একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। তিনি বলেন, ‘লেজারই হতে চলেছে ভবিষ্যৎ।’ তিনি উল্লেখ করেন যে অপেক্ষাকৃত ধীরগতির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে এই ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই কার্যকর।
ট্রাম্প জানান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করার পর ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার তুলনায় লেজার পরিচালনা করার খরচ অত্যন্ত কম।
কানাডা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দেশটির নেতৃত্বের সমালোচনা পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প, তবে তিনি কানাডার সরকার ও সেদেশের নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। কানাডাকে আলোচনার জন্য ‘সবচেয়ে কঠিন দেশ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় কানাডার সঙ্গে বোঝাপড়া করা সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা।’
দেশটির জনগণের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, কানাডার মানুষ ‘চমৎকার’, তবে নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে অতিরিক্ত শুল্ক আসছে, বিশেষ করে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে অটোমোবাইলের ওপর শুল্ক কার্যকর হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ সম্পর্কেও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বিশ্বাস করেন, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষতির চেয়ে শেষ পর্যন্ত অনেক বেশি উপকার নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, ‘এটি খারাপের চেয়ে ভালোই বেশি করবে।’
তিনি আবারও তার বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, যে দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব দেবে, তারাই বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা পাবে। ট্রাম্প বলেন, ‘যে এআই জয় করবে, সে-ই বিজয়ী হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে অটোমেটেড লাইসেন্স-প্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরা (যা সাধারণত ফ্লক ক্যামেরা নামে পরিচিত) ব্যবহারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি অপরাধীদের ধরতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাহায্য করতে পারে। প্রযুক্তিটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন উদ্বেগের কথা স্বীকার করেও তিনি সাধারণত এর ব্যবহারের প্রতি সমর্থন জানান।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.