আপনি পড়ছেন

ইয়েমেন কোনো আঞ্চলিক শক্তির দর-কষাকষির হাতিয়ার বা বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্র নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে নিজেদের অংশীদারত্ব অত্যন্ত দৃঢ় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। শনিবার ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবা-তে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এমন এক সময়ে তার এই বক্তব্য এলো, যখন দেশটির বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনী ও ইরান সমর্থিত হুতিদের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে।

ইয়েমেন কারও দর-কষাকষির ঘুঁটি নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মানচিত্র

আফরাহ আল-জুবা বলেন, ‘ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার করাই দেশটির নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সমুদ্রপথের সুরক্ষার মূল ভিত্তি। সরকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত দায়িত্বশীলতা ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মোকাবিলা করছে।’ তিনি আরও বলেন, সরকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জটিলতা কিংবা ইয়েমেনি জনগণের দুর্ভোগকে খাটো করে দেখছে না। সরকারের মূল দায়িত্ব হলো বিদ্যমান ত্রুটিগুলো দূর করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব একটি ‘সমন্বিত প্রতিরোধ’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের এই পদক্ষেপ কেবল সামরিক ফ্রন্টেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা, সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সেবা বজায় রেখে কূটনীতিকে কাজে লাগানো এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।

লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে নৌচলাচল প্রসঙ্গে আল-জুবা বলেন, এই হুমকি কেবল জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কোনো এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেই নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার জন্মায় না। বলপ্রয়োগ করে কোনো ভূখণ্ড ও দ্বীপপুঞ্জের ওপর ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তন করা যাবে না। হুমকির মুখে একটি জাহাজের পারাপার নিশ্চিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে নৌচলাচলের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টেকসই স্থিতিশীলতার জন্য উপকূল, বন্দর ও দ্বীপগুলোতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি উপকূলীয় রাষ্ট্র এবং অংশীদারদের সঙ্গে সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, বন্দর নিরাপত্তা, কোস্টগার্ড বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সজ্জিত করা এবং চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধ দমনে সহযোগিতা বাড়ানো দরকার।

রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করে আল-জুবা বলেন, ‘ইয়েমেনি জনগণ ও তাদের বৈধ নেতৃত্বের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ত্যাগ ও সমর্থনের জন্য সৌদি আরব প্রশংসার দাবিদার।’ তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব অত্যন্ত সুদৃঢ়। ইয়েমেনি রাষ্ট্রকে সমর্থনে দেশটির ভূমিকা আমাদের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল ইয়েমেনই সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করে।’

মিশরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আরব অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান, ইয়েমেন পরিস্থিতি, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে কায়রোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। সংকটের মূল কারণ হিসেবে তিনি মিলিশিয়াদের রাষ্ট্রবিরোধী অভ্যুত্থান এবং জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকে দায়ী করেন। সংঘাতটিকে তিনি জাতীয় রাষ্ট্রীয় প্রকল্প এবং হুতিদের ‘রাষ্ট্রহীন প্রকল্প’-এর মধ্যকার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন, যা ইয়েমেনকে অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকির ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিরোধিতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে হুতিদের প্রতি রাশিয়ার আহ্বানকে তিনি স্বাগত জানান। একই সঙ্গে মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক জোরদার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে আলোচনা এগিয়ে নিতে ইয়েমেনের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আঞ্চলিক ঘটনাবলীর প্রসঙ্গে আল-জুবা জানান, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশ ও সমুদ্রপথে হুমকি সৃষ্টিতে ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের সমর্থনের তীব্র নিন্দা ও তা প্রত্যাখ্যান করে ইয়েমেন সরকার। তিনি বলেন, ‘ইয়েমেন অন্য কোনো ময়দানে কারও ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নয়, কারও হিসাব মেটানোর ক্ষেত্র নয় এবং আঞ্চলিক আলোচনায় সুবিধা পেতে কোনো আঞ্চলিক শক্তির দর-কষাকষির ঘুঁটিও নয়।’

ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই এসব মন্তব্য এলো। দেশটির সেনাবাহিনী শনিবার জানায়, তাইজ ও লাহজে হুতিদের সঙ্গে সংঘর্ষে পূর্ববর্তী দুই দিনে তাদের ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাব এল-মান্দেব প্রণালীর নিকটবর্তী কাহবুব ফ্রন্টে হুতিদের এক শীর্ষ কমান্ডার এবং তার ছয়জন দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন বলে এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

২০২২ সালের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে শুরু হওয়া আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির মধ্যে গত জুলাইয়ের শুরু থেকে সবচেয়ে তীব্র সামরিক সংঘাত শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে তাইজ, মারিব, আল-জাওফ, আল-বায়দা ও লাহজে নতুন করে সংঘর্ষ চলছে। সেপ্টেম্বরে এই লড়াই আরও তীব্র রূপ নেয়, যার ফলে হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা শহর এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালীর পেরিম দ্বীপসহ আল হুদাইদাহ ও তাইজের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে নেয়। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুতিরা রাজধানী সানা ও বেশ কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.