মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতার মুখে ইরাক
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের পর ইরাক থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশটিতে চার দিন ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্য দিয়ে ইরাকে থাকা কয়েকশ মার্কিন সেনার বিদায় নিশ্চিত হচ্ছে। এসব সেনা মূলত ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ইসলামিক স্টেট (আইএস)বিরোধী জোটের অভিযানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন। খবর আল জাজিরার

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির দায়িত্ব নেওয়ার আগেই করা হয়েছিল। তবে এটি ইরাকি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার তার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দেশের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে ইরানের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি শক্তিশালী সংগঠনও রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে আল-জায়েদি বলেন, শান্তি ও যুদ্ধের বিষয়ে রাষ্ট্রই যেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় এবং অস্ত্র ও ক্ষমতার উপকরণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে তার সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক সামরিক সহযোগিতা থেকে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার দিকে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইরানের ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াগুলোকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করারও সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করেন ইরাকে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডগলাস সিলিম্যান।
দীর্ঘদিন ধরে এসব গোষ্ঠী ইরাকের মাটিতে মার্কিন ও অন্যান্য বিদেশি সেনাদের উপস্থিতিকে অস্ত্র রাখার অন্যতম যুক্তি হিসেবে দেখিয়ে আসছে। তাদের কয়েকটি ইতোমধ্যে অস্ত্র হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে ইরাকের সামনে নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ইরানের প্রভাব বাড়ার পাশাপাশি ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলা চালিয়ে গেলে ওয়াশিংটনের চাপও বাড়তে পারে। একই সময়ে আইএসের সুপ্ত কোষ, সিরিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাতও ইরাকের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী সেনাবাহিনী, পুলিশ, সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী ও জনপ্রিয় সংঘবদ্ধ বাহিনীর আইএস মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে মার্কিন সেনাদের সরাসরি উপস্থিতি শেষ হলেও এর নিরাপত্তাগত প্রভাব কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
ইরাকের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। ইরাকে থাকা ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো অতীতে ড্রোন, রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসব হামলা মোকাবিলায় ইরাকি সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা সীমিত বলে সতর্ক করেছেন সিলিম্যান। কুর্দিস্তান অঞ্চলের কর্মকর্তারাও মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহারে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহার একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে সামরিক সহযোগিতা থেকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত সম্প্রসারণ এবং হরমুজ প্রণালির বাইরে জ্বালানি পরিবহনের নতুন পথ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরাকের চারপাশে সংঘাত অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাগদাদকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজস্ব নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য তৈরির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.