মতিউর রহমান: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে অগ্নিকাণ্ডে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
গণমাধ্যমের প্রতি আচরণের জন্য শেখ হাসিনা ও মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যম সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বর্তমান সরকারের সমালোচনাও করেছেন তিনি। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন অতীতের বিএনপি সরকারের প্রশংসা করেন তিনি।

'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন'-এর 'জার্নালিজম আফটার দ্য টার্নিং পয়েন্ট' শীর্ষক এক অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ক্ষমতাসীন দলকে তাদের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মনে করিয়ে দেন। যেখানে গণমাধ্যম কমিশন গঠন, কালাকানুন বাতিল এবং 'নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা' সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও সংবাদপত্র ও সামগ্রিক গণমাধ্যম খাত সংস্কারে এখনও কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
আওয়ামী লীগ শাসনামলের কথা স্মরণ করে মতিউর রহমান বলেন, সে সময় সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং প্রথম আলো ক্রমাগত চাপের মুখে ছিল। সংবাদপত্রের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সরকারি নির্দেশে ৫০টি বড় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর একটি মামলাসহ প্রায় ৮০টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
তিনি স্মরণ করেন, শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রথম আলোকে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ ও দেশের ‘শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের আগে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা তাকে সরিয়ে দিতে এবং মালিকানা পরিবর্তনে বাধ্য করতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর ‘প্রচণ্ড চাপ’ সৃষ্টি করেছিল।
তিনি বিশ্বাস করেন, আওয়ামী লীগ সরকার আর কয়েক মাস ক্ষমতায় থাকলে হয়তো প্রথম আলোর পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া হতো।
পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাপে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা হয়েছিল, যার ফলে বহু সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন এবং পুরো শিল্পটি ক্রমবর্ধমানভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল। অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশের কারণে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সেলফ-সেন্সরশিপের চর্চা করতে হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন কার্যত কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তিনি বলেন, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ‘বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার’ ও বিক্ষোভের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।
সরকারি কর্তৃপক্ষ এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধে কোনো কার্যকর নির্দেশনা দেয়নি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সবকিছু পুড়িয়ে ধ্বংস করার পরই কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফায়ার সার্ভিসের প্রবেশের পথ পরিষ্কার করেছিল।’
বিপরীতে, খালেদা জিয়ার সরকারের (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) আমলে ভোরের কাগজ ও প্রথম আলোর সম্পাদক হিসেবে তিনি ‘উল্লেখযোগ্য স্বাধীনতা’ ভোগ করেছিলেন বলে জানান মতিউর রহমান। ২০০১-২০০৬ সালের সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেও তার পত্রিকাকে বড় ধরনের কোনো আইনি হয়রানির মুখে পড়তে হয়নি।
খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনরত তার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে উত্তপ্ত বিতর্ক করার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, এজন্য তাকে কোনো প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার হতে হয়নি।
১৯৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবিতে আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এক বিক্ষোভে যোগদানের স্মৃতিচারণ করে প্রবীণ এই সাংবাদিক আক্ষেপ করে বলেন, ৬৪ বছর পরও একই দাবি এখনও প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘৬৪ বছর পর আজও আমাদের সেই দাবিগুলো নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আজও আমাদের এগুলো চাইতে হচ্ছে। আজও যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে যে কথা বলার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কোনো সুযোগ বা সুবিধা নয়, এগুলো মৌলিক অধিকার। সাংবাদিকতায় ৫৬ বছর পার করার পর নিজেকে আবারও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি।’
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.