আপনি পড়ছেন

সামরিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সংযোজন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কমে আসার ফলে যন্ত্রনির্ভর যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত নিকটবর্তী হচ্ছে। জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইউনিডির) প্রধান মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সতর্কবার্তা দেন। ইউনিডির পরিচালিত এআই, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক নতুন উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বৈশ্বিক এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
সামরিক অভিযানে আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের ব্যবহার

রবিন গেইস বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা বলতে পারি যন্ত্রনির্ভর যুদ্ধ ক্রমশ নিকটবর্তী হচ্ছে। আমাদের সামনে এখন সহজ প্রশ্নটি হলো, আমরা কি আসলেই যন্ত্রকে মানুষ চিহ্নিত করতে এবং তাদের হত্যা করার অনুমতি দেব?’

তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, ড্রোন পরিচালনা, সাইবার আক্রমণ এবং তথ্য কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।

গেইস বলেন, ‘আমরা যখন কথা বলছি, ঠিক তখনই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমা সংকুচিত হচ্ছে; এগুলো যন্ত্রের গতিতে সংকুচিত হচ্ছে। ফলে মানুষের বিচার-বিবেচনার সুযোগ ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে আসছে, এমনকি পারমাণবিক ক্ষেত্রেও।’

তিনি সতর্ক করে জানান, এআই সক্ষমতার বিস্তার অত্যন্ত জটিল অভিযানের ক্ষেত্রে প্রবেশের পথ সহজ করে দিচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন রাষ্ট্রহীন গোষ্ঠী বা অপশক্তির পক্ষেও উন্নত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে।

গেইসের মতে, স্বল্পসংখ্যক কিছু দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমনভাবে বৈশ্বিক নিরাপত্তার রূপরেখা নিয়ন্ত্রণ করছে, যা প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনাকে সামনের পথের গুরুতর বাধা হিসেবে স্বীকার করে তিনি উল্লেখ করেন, এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক বলয়কে অতিক্রম করেছে এবং এটি পরাশক্তিগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।

তিনি জানান, সুইজারল্যান্ড ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে ইউনিডির নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার একটি নতুন ফোরাম চালু করবে। এই ফোরামকে তিনি জাতিসংঘ ব্যবস্থার একমাত্র বহুপাক্ষিক সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং সামরিক ক্ষেত্রে এআই নিয়ে কাজ করবে।

চলতি সপ্তাহে আরও তিনটি নতুন উদ্যোগ উন্মোচন করা হবে বলেও তিনি জানান।

গেইস বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো নীতিগত ফাঁকগুলো চিহ্নিত করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রস্তাব করা। একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধের প্রচেষ্টা যেন সবার জন্য এআইয়ের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও সুবিধার পথ রুদ্ধ না করে, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।

যুদ্ধক্ষেত্রের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, সামরিক এআই প্রতিযোগিতা মূলত একটি গতির প্রতিযোগিতা, যার মধ্যে সংকেত পাওয়ার পর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সময় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করাও অন্তর্ভুক্ত।

গেইস বলেন, ‘এখানে একক কোনো অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর চেয়েও সামরিক পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যদি আমরা এতে মাত্রাতিরিক্ত নির্ভর হয়ে পড়ি।’

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.