ভূখণ্ড হারালেও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা তাইগ্রে বিদ্রোহীদের
আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলেসহ বড় শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে তিগ্রাই বিদ্রোহীরা। শুক্রবার আঞ্চলিক টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) চেয়ারম্যান দেব্রেৎসিওন গেব্রেমিকায়েল দাবি করেন, এলাকা হাতছাড়া হলেও তাদের আন্দোলন থেমে যায়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শত্রুদের জন্য তিগ্রাই একটি কবরস্থান হয়ে থাকবে।’

দেব্রেৎসিওন উল্লেখ করেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে এখনও সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারানোর অর্থ কোনোভাবেই চূড়ান্ত পরাজয় নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদ্রোহী যোদ্ধারা শহরটি থেকে সরে যাওয়ার পর ৩ অক্টোবর ইথিওপিয়ার সামরিক বাহিনী মেকেলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পরই মূলত টিপিএলএফ নেতার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে এলো।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার যোদ্ধারা রণক্ষেত্রে বেশ কিছু সাফল্য অর্জন করেছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দিয়েছে। তবে এই দাবিগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সরকারিভাবেও হতাহতের সংখ্যার বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
উত্তরাঞ্চলীয় ইথিওপিয়ায় দুই বছরব্যাপী রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ অবসানের দীর্ঘ চার বছর পর, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে অঞ্চলটিতে পুনরায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী বেশ কয়েকটি কৌশলগত শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বিপরীতে টিপিএলএফও সরকারি অবস্থানের ওপর দফায় দফায় হামলা চালানোর দাবি করে আসছে।
এদিকে ইথিওপিয়ার সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানায়, সুদান সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলীয় বেনিশাংগুল-গুমুজ অঞ্চলে তাদের অভিযানে অনির্ধারিত সংখ্যক টিপিএলএফ যোদ্ধা নিহত এবং চারজন বন্দি হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ‘আর্মি ১৩’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র ইউনিট। অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অভিযোগ আনা হয়েছে দলটির বিরুদ্ধে।
আঞ্চলিক সম্প্রচারমাধ্যম বেনিশাংগুল-গুমুজ মিডিয়া টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইথিওপিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে এই বিদ্রোহীরা সুদান ও ইরিত্রিয়াসহ বিদেশি মদদে তৎপরতা চালাচ্ছিল।
এই সংঘাত ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে আদ্দিস আবাবা।
তবে ইথিওপিয়াকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরিত্রিয়া। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত ইথিওপিয়ার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।
সংঘাতময় পরিস্থিতি সামাল দিতে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ তিগ্রাইয়ের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগ করেছেন এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেখানে আঞ্চলিক নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। তবে এই রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে টিপিএলএফ।
২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা যুদ্ধে চরম মানবিক বিপর্যয় ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ধাক্কা কাটিয়ে তিগ্রাই যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই আবার এই নতুন সহিংসতার ঘটনা ঘটল।
সংবাদমাধ্যম আদ্দিস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ তিগ্রাইয়ে একটি ড্রোন হামলায় ট্রাকে গবাদিপশু তোলার সময় চারজন নিহত হন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেশী আমহারা অঞ্চলেও মারাত্মক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে সরকারি বাহিনী ফানো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সেখানে মঙ্গলবার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়টি শিশু নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.