আপনি পড়ছেন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রবিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিজিটিআরকে-তে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিন দেশের শীর্ষ নেতার প্রশাসনই এই বৈঠক আয়োজনের জন্য নীতিগতভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

পুতিন-শি-ট্রাম্পের ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু
এক অনুষ্ঠানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

ইউরি উশাকভ বলেন, ‘আমি এখন নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি যে মস্কো, বেইজিং ও ওয়াশিংটন নীতিগতভাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠানে প্রস্তুত এবং এর প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, চীনের শেনঝেনে আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়নি। তবে শি জিনপিংকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা চলায় দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উশাকভ বলেন, ‘আমরা এখনো এই বৈঠকের বিষয়ে সম্মত হইনি, কারণ এ পর্যন্ত আমরা কেবল ত্রিপক্ষীয় যোগাযোগের বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘দুই প্রেসিডেন্ট যদি একই স্থানে উপস্থিত থাকেন, তবে তারা অন্তত একে অপরকে অভিবাদন জানাবেন, একই টেবিলে বসে কথা বলবেন এবং আনুষ্ঠানিক আয়োজনগুলোর ফাঁকে আলাপ করবেন। এ ধরনের বৃহৎ আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলো যোগাযোগের বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়।’

ক্রেমলিনের এই উপদেষ্টা জানান, রাশিয়া বর্তমানে নভেম্বরে শেনঝেনে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনের বিষয়টি পরে বিবেচনা করবে। শেনঝেন সম্মেলনের সাফল্য ডিসেম্বরের জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়ার অংশগ্রহণে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই তা প্রভাব ফেলবে। তবে আমি বলছি যে নভেম্বর আগে আসবে, তারপর ডিসেম্বর।’

উশাকভ আরও মন্তব্য করেন, ট্রাম্প প্রশাসন বুঝতে পেরেছে যে রাশিয়াকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয় এবং মস্কোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাটাই তাদের জন্য শ্রেয়। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সার্বিক রাজনৈতিক পটভূমি রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল। তবে সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন রয়েছে, যা তাদের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর সেই স্বার্থের মূল কথাই হলো রাশিয়াকে উপেক্ষা করা যায় না এবং রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করাই উত্তম।’

ইউক্রেন প্রসঙ্গে উশাকভ জানান, আগামী ৪ নভেম্বর রাশিয়ার জাতীয় ঐক্য দিবসের পর রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন এই ত্রিপক্ষীয় কাঠামোর আওতায় পুনরায় আলোচনা শুরু করতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী সময়সীমা হলো ৪ নভেম্বর, যা আমাদের একটি বড় ছুটির দিন। এর পর আমরা পুনরায় আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত থাকব।’

তবে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের এই পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রাখার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি একে একটি ‘প্রাথমিক আলোচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম বৈঠকেই খুব বেশি কিছু সমাধান করা সম্ভব নয়। এটি সম্ভবত পরিস্থিতি যাচাই ও অনুসন্ধানী প্রকৃতির হবে।’ এর পাশাপাশি শান্তি চুক্তির বিষয়ে উভয় পক্ষের এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, অ্যাঙ্করেজ শীর্ষ সম্মেলনের পর ক্রেমলিন আশা করেছিল যে ওয়াশিংটন কিয়েভকে শর্ত মানতে চাপ প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে, কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব খুবই সামান্য প্রমাণিত হয়েছে। ইউরোপের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত করার দিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রবণতা থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘কেবল কিয়েভের সঙ্গে কথা বলাই যথেষ্ট নয়, আমাদের পুরো ইউরোপের সঙ্গেই কথা বলতে হবে, কারণ তারা কিয়েভকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।’

এদিকে পৃথক এক বক্তব্যে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবকে প্রস্তাব করার খবরের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। পেসকভ জানান, প্রস্তাবিত দূত যদি আন্তরিকভাবে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চান, তবে মস্কো এমন নিয়োগকে সমর্থন করবে। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকেন, তবে তা ভালো। আর তিনি যদি আন্তরিকভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়তা করতে সচেষ্ট হন, তবে তা আরও ভালো হবে।’

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.