সার্বিয়ার নির্বাচনে হার স্বীকার প্রেসিডেন্ট ভুসিচের
সার্বিয়ার আগাম সংসদীয় নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে এগিয়ে রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল ও পূর্বাভাসে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পর পরাজয় স্বীকার করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ। রবিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল দেশটিতে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ভুচিচের রাজনৈতিক আধিপত্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিল।

রাজধানী বেলগ্রেডে নিজের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) প্রধান কার্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রাথমিক পূর্বাভাসের ভিত্তিতে নিজের নির্বাচনী জোটের পরাজয় মেনে নেন ভুচিচ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনও চূড়ান্ত ফলাফল আসেনি। অনেকেই অবাক হবেন এবং আপনারা বুঝতে পারবেন যে কিছু মানুষ কতটা মিথ্যা বলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নমুনার ওপর ভিত্তি করে এটি স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি।’
ভুচিচ জানান, সার্বিয়ার ২৫০ আসনের জাতীয় সংসদে শিক্ষার্থী-সমর্থিত বিরোধী জোট ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে তার ‘ইউনাইটেড সার্বিয়া’ জোট প্রায় ১০৫টি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিজের এই নির্বাচনী পরাজয়ের পেছনে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এবং ‘আমেরিকান ডিপ স্টেট’-এর হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন তিনি। সার্বিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব বিস্তার এবং নির্বাচনের ফলাফলে ভূমিকা রাখার জন্য বিদেশি শক্তিগুলোকে অভিযুক্ত করেন তিনি।
জরিপ সংস্থা ইপসোস এবং সেন্টার ফর ফ্রি ইলেকশনস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিইএসআইডি)-এর প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুসারে, ‘স্টুডেন্টস উইন’ নির্বাচনী জোট ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যদিকে ভুচিচের ‘ইউনাইটেড সার্বিয়া’ জোট পেয়েছে ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট।
প্রক্রিয়াকৃত নমুনার ৫৬ শতাংশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা পূর্বাভাসে দেখা যায়, ইভিকা দাচিচের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট পার্টির ‘ফ্যাক্টর অব স্ট্যাবিলিটি’ জোট পেয়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সিআরটিএ-এর পৃথক পূর্বাভাসেও শিক্ষার্থী-সমর্থিত জোটকে ৫১ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ভুচিচের জোটকে ৪০ দশমিক ৪২ শতাংশ ভোট পেতে দেখা গেছে।
সার্বিয়ার প্রজাতন্ত্র নির্বাচন কমিশন (রিপাবলিক ইলেকটোরাল কমিশন) কর্তৃক আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না হওয়া পর্যন্ত এই ফলাফলগুলো প্রাথমিক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাব্য ফলাফল ভুচিচের এসএনএস-এর জন্য একটি বড় ধাক্কা, যা ২০১২ সাল থেকে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল।
এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে এসএনএস-নেতৃত্বাধীন জোট ৪৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট এবং ১২৯টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। সেই সময় বৃহত্তম বিরোধী জোট ‘সার্বিয়া অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্স’ ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ ভোট ও ৬৫টি আসন এবং দাচিচের সোশ্যালিস্ট পার্টির জোট ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভোট ও ১৮টি আসন পেয়েছিল।
শিক্ষার্থী-সমর্থিত নির্বাচনী জোটের বিজয়ের খবরে অভিনন্দন জানিয়েছেন মন্টেনিগ্রোর প্রেসিডেন্ট ইয়াকভ মিলাতোভিচ। এর ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মিলাতোভিচ ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ইচ্ছা প্রকাশের জন্য সার্বিয়ার নাগরিকদের প্রশংসা করেন।
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচনের এই ফলাফল বন্ধুত্ব, আন্তরিক সংলাপ এবং একটি অভিন্ন ইউরোপীয় ভবিষ্যতের ভিত্তিতে মন্টেনিগ্রো ও সার্বিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
রবিবারের এই নির্বাচনে সার্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলের বোসনিয়াক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও অংশ নেয়।
এর মধ্যে ওসামে জুকোরলিচের জাস্টিস অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন পার্টি (এসপিপি), সুলেয়মান উগলিয়ানিনের ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন অব সান্দজাক (এসডিএ সান্দজাক) এবং রাসিম লেইচের একটি পৃথক নির্বাচনী তালিকা উল্লেখযোগ্য।
২০২৩ সালের সংসদীয় নির্বাচনে জুকোরলিচের তালিকা প্রায় শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দুটি আসন এবং উগলিয়ানিনের এসডিএ সান্দজাক প্রায় শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দুটি আসন পেয়েছিল। আগের নির্বাচনে লেইচের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব সার্বিয়া এসএনএস-নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।
সার্বিয়ার নির্বাচনী আইন অনুসারে, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জাতীয় সংখ্যালঘু দলগুলোর জন্য সংসদে প্রবেশের ৩ শতাংশ ন্যূনতম ভোটসীমার বাধ্যবাধকতা নেই এবং তারা আসন বণ্টনে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। নতুন সংসদে বোসনিয়াক সংখ্যালঘু দলগুলোর চূড়ান্ত প্রতিনিধিত্ব সরকারি ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
রবিবারের নির্বাচনে ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি, ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সারি এবং অনিয়মের অসংখ্য অভিযোগ দেখা গেছে।
ইপসোস এবং সিইএসআইডি-এর তথ্যমতে, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি দাঁড়িয়েছিল ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশে, যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে নথিভুক্ত হওয়া প্রায় ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশের চূড়ান্ত উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে গেছে।
সিইএসআইডি জানিয়েছে, রাত ৮টা পর্যন্ত তারা সম্ভাব্য অনিয়মের তিন শতাধিক অভিযোগ পেয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিচয়পত্র ছাড়া ভোট দেওয়া, ভোট দেওয়া ব্যালট পেপারের ছবি তোলা, দলবদ্ধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটকেন্দ্রে প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং ভোটারদের ভয় দেখানো ও ভোট কেনার সন্দেহজনক ঘটনা। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে দেখছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ভেঙে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে প্রায় দুই বছর ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। সেই পটভূমিতেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সার্বিয়াজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ঘটনার জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি তোলা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই ছাত্র আন্দোলন ভুচিচের এসএনএস দলের বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
১৯৯০ সালে বহুদলীয় রাজনীতি পুনর্প্রবর্তনের পর রবিবার সার্বিয়ায় ১৫তম সংসদীয় নির্বাচন এবং ১০ম আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা অব্যাহত থাকায় রিপাবলিক ইলেকটোরাল কমিশন পরবর্তী সময়ে আরও ফলাফল প্রকাশ করবে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.