আপনি পড়ছেন

কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বাতিল হওয়া স্টাডি পারমিটের আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন দেশটির মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদেরা। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তারা সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণের যে সরকারি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষা করা হয়নি।

ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বাতিল ভিসা পুনর্বিবেচনার আহ্বান কানাডার বিশেষজ্ঞদের
কানাডার অটোয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর ভবন

অটোয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘প্যালেস্টাইনিয়ান স্টুডেন্টস অ্যান্ড স্কলার্স অ্যাট রিস্ক নেটওয়ার্ক’ (পিএসএসএআর)-এর পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বাহের আব্দুলহাই। তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের দফায় দফায় আশ্বাস সত্ত্বেও গাজার শিক্ষার্থীরা ন্যায্য সমাধানের বদলে আবেদন প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে বিষয়টি আবেদন প্রক্রিয়াকরণের দীর্ঘসূত্রতা হিসেবে দেখা গেলেও পরবর্তীতে তা ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতার সংকটে রূপ নিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তব ফলাফলে রূপ নেয়নি।’

আব্দুলহাই জানান, গাজা উপত্যকার বাইরে অবস্থানরত তাদের নেটওয়ার্কের নজরদারিতে থাকা ৩৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৩০ জনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে কিংবা তাদের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ‘খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ও আক্রমণাত্মক অভিবাসন সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বা তথাকথিত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এমন তথ্যে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

তিনি উল্লেখ করেন, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে গাজা থেকে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গেছে এবং তাদের বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া শিথিল করেছে। তিনি বলেন, ‘কানাডাকেও একই ধরনের জরুরি তৎপরতা প্রদর্শন করতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি গাজায় একটি অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ বায়োমেট্রিক ইউনিট স্থাপনের আহ্বান জানান।

কানাডা-ফিলিস্তিন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের নির্বাহী সদস্য এবং গ্রিন পার্টির নেতা এলিজাবেথ মে জানান, এই শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে কানাডার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কঠোর যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ হতে দেখে একজন কানাডীয় নাগরিক হিসেবে আমি লজ্জিত।’

ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যারন শেফার জানান, ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী কানাডার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কানাডা সরকার তাদের নথিপত্র পুরোপুরি উপেক্ষা করে আসছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মিশরের কায়রোতে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেখানে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামাসের কার্যক্রম সম্পর্কে বারবার প্রশ্ন করা হয়। অধ্যাপক শেফার বলেন, ‘গাজায় শিক্ষা গ্রহণের অপরাধে শিক্ষার্থীদের এভাবে সামগ্রিকভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। নিরাপত্তা মূল্যায়ন কোনো পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং ব্যক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’ তিনি কায়রো দূতাবাস থেকে বাতিল হওয়া সব আবেদন পুনর্বিবেচনা এবং ঝুলে থাকা সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।

ইহুদি কানাডীয়দের সংগঠন ‘ইন্ডিপেনডেন্ট জিউইশ ভয়েসেস’-এর জাতীয় সমন্বয়ক কোরি বালসাম জানান, তারা ইহুদি কানাডীয় হিসেবে এই আবেদন জানাচ্ছেন। কারণ গাজার ফিলিস্তিনিদের দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার পক্ষে প্রায়ই ইহুদিদের নিরাপত্তার যুক্তি দাঁড় করানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এই অজুহাত পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। এই ধারণার ভিত্তি কোনো বাস্তবতা নয়, বরং ফিলিস্তিনবিরোধী বর্ণবাদ।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিরজাইত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও কাজ করা বালসাম বলেন, ‘গাজার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ পাওয়া ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, স্বপ্ন এবং স্বাভাবিক জীবন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়াই আমাদের সরকারের ন্যূনতম কর্তব্য।’

হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের ফিরাজ আজিজ জানান, প্রতিটি আবেদনের পেছনে একটি করে মানবজীবন লুকিয়ে রয়েছে এবং সেই জীবনগুলো এখন অনিশ্চয়তায় থমকে আছে। তিনি বলেন, মানবিক কার্যক্রমের লক্ষ্য কেবল বেঁচে থাকার সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং তাদের ভবিষ্যৎ ও স্থিতিশীলতার ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। কানাডা সরকারেরও এই একই মানবিক মানদণ্ড বজায় রাখা উচিত।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.