আপনি পড়ছেন

রাশিয়া থেকে সৃষ্ট হুমকির বিষয়ে সুর নরম করতে বেশ কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশকে অনুরোধ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন। ইউরোপীয় নেতাদের আগ্রাসী ও কঠোর বক্তব্য মহাদেশীয় নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

ইউরোপীয় মিত্রদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য কমাতে বলল যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার জন্য যেসব দেশকে বার্তা পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দেওয়া এই বার্তাগুলো অন্যান্য ইউরোপীয় সরকারের কাছেও পাঠানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। পঞ্চম বছরে পদার্পণ করা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নতুন করে শুরু করেছে, ঠিক তখনই এই অনুরোধ জানাল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের সর্বশেষ এই পদক্ষেপে রাশিয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ বিভিন্ন প্রণোদনা যেমন রয়েছে, তেমনই রুশ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের ওপর চাপও বাড়ানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে একজন পেন্টাগন কর্মকর্তা জানান, মিত্রদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা নিজস্ব পরিসরেই থাকা উচিত। তাই এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না।

সূত্রগুলোর একজন জানান, ইউক্রেনে মস্কোর আগ্রাসনের গতি মন্থর হয়ে পড়ায় রাশিয়া কোণঠাসা হয়ে ক্রমেই বেপরোয়া পদক্ষেপ নিচ্ছে—ইউরোপীয় নেতাদের এমন কিছু বক্তব্য মার্কিন কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতির মাত্রা পুনর্বিবেচনার দায়িত্বে থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবি এই বার্তা দেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম। তবে এর সঙ্গে অন্য কোন কোন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। তিনজন ইউরোপীয় এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর কেউই এই পরামর্শকে আক্রমণাত্মক বা মুখোমুখি সংঘাতমূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেননি।

ন্যাটোর ভেতরে ক্রমশ আগ্রাসী হয়ে ওঠা রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া উচিত, মার্কিন বার্তাগুলো মূলত সেই বিতর্ককেই সামনে এনেছে। কয়েকজন পশ্চিমা কর্মকর্তা যুক্তি দেন, মস্কোর হুমকিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে তা ক্রেমলিনের উদ্দেশ্যকেই সফল করতে পারে। কারণ তারা আতঙ্ক ছড়াতে এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দুর্বল করতে চায়। অন্যদিকে অন্যান্যদের যুক্তি, মস্কোকে প্রতিহত করতে ত্যাগ ও সম্পদের প্রয়োজন সম্পর্কে নিজ দেশের জনগণকে সচেতন করতে ইউরোপীয় সরকারগুলোর স্বচ্ছ হওয়া উচিত। বিশেষ করে যখন রাশিয়া পুরো মহাদেশজুড়ে একের পর এক গোপন অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা জোরদার করছে বলে অভিযোগ উঠছে, তখন এমন অবস্থান জরুরি। তবে এমন কোনো অভিযান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন রয়টার্সকে জানান, সম্প্রতি এক বাল্টিক কর্মকর্তাকে কোলবি বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ‘উসকানি’ দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও জানান, ইউরোপীয়দের পক্ষ থেকে জনসমক্ষে রাশিয়াকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’-এর সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টি অনুপযোগী বক্তব্যের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন কোলবি। কোলবি নির্দিষ্ট কোন বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিশাল রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইউক্রেনে ক্রমেই আটকে পড়ার কারণে রুশ নেতা ইউরোপে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার পথ বেছে নিচ্ছেন।

পেন্টাগনের সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত বার্তার বর্ণনা দিয়ে অপর এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আপনাদের সাহায্য করছি। আমেরিকানরা সেখানে রয়েছে। শুধু উচ্চবাচ্য করবেন না। কোনো হৈচৈ করবেন না।’

সাম্প্রতিক আরেকটি বৈঠকে পেন্টাগন একটি এস্তোনীয় প্রতিনিধিদলকে তাদের বক্তব্য বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘পরিমিত’ হতে আহ্বান জানায়। ওই বৈঠক সম্পর্কে অবহিত এক ব্যক্তি এই তথ্য দিলেও তিনি জানান, পেন্টাগন কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নিয়ে অভিযোগ করেননি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ন্যাটোও এ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানান, পেন্টাগনের এই পরামর্শ আন্তরিক হলেও বেশ বিভ্রান্তিকর। কারণ বাল্টিক দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ন্যাটো জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা অনুচ্ছেদকে রাশিয়া পরীক্ষা করবে—এমন সম্ভাবনা কম বলেই মূল্যায়ন করে আসছিল। বিপরীতে ন্যাটোর অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেছে, মস্কো অদূর ভবিষ্যতে তাদের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

ইউরোপীয় নিরাপত্তার এক সংকটময় মুহূর্তে ন্যাটো কর্মকর্তাদের কাছে পেন্টাগনের এই বার্তাগুলো এলো। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, মস্কো সম্প্রতি ন্যাটো দেশগুলোর ওপর এমন কিছু হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে, যার দায় তারা সরাসরি স্বীকার করে না। বুধবার জার্মান কৌঁসুলিরা জানান, নুরেমবার্গ এলাকায় একটি ভবন বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনার অভিযোগে দুই বেলারুশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে লাইপজিগ/হ্যালি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছিল জার্মান সরকার। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো।

একই সময়ে, ইউক্রেনে ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন কর্মকর্তারা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। তাদের অনেকেই ক্রেমলিনকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার পক্ষে চাপ দিচ্ছেন। এর মধ্যেই ইউরোপে ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি পর্যালোচনা করছেন পেন্টাগনের পরিকল্পনাবিদরা। এই প্রক্রিয়ার ফলে মহাদেশটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি নিজেদেরই নেওয়া প্রয়োজন; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্য, ল্যাটিন আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়ার হুমকির ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.