আপনি পড়ছেন

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের এক ব্যাপক প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও কৃষকরা পুরোনো ভোটার তালিকা পুনর্বহাল এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন করছেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) পরিচালিত এই কর্মসূচিটি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) নামে পরিচিত, যেখানে ভোটারদের নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পুরোনো নথিপত্র দাখিল করতে হচ্ছে।

ভারতে ভোটার তালিকা সংস্কার ঘিরে আন্দোলন ও রাজনৈতিক দ্বিচারিতা
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে আয়োজিত রাজনৈতিক বিক্ষোভ সমাবেশ

ছয় বছর আগে নাগরিকত্ব নির্ধারণে এমন নথিপত্রের বাধ্যবাধকতা কোটি কোটি মানুষকে, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়কে নাগরিকত্বহীন করার ঝুঁকিতে ফেলবে বলে রাজপথে নেমে সতর্ক করেছিলেন মুসলিমরা। সে সময় তাদের সেই সতর্কবার্তা মূলত উপেক্ষিত হয়েছিল। বর্তমানে এই বাদ পড়ার হুমকি কেবল মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যদের ওপরও নেমে এসেছে। ফলে যারা অতীতে ওই সতর্কবার্তাকে পাত্তা দেননি, এখন তারা নিজেরাই রাজপথে নেমে এসেছেন।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতের সাধারণ মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়ালেও বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়ায় একধরনের দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানানো যৌক্তিক হলেও বিরোধীদের দাবিগুলো ২০১৯ সালের সেই বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনকে স্পর্শ করছে না। যার বিরুদ্ধে মুসলিমরা আন্দোলন করেছিলেন এবং এখনো তাদের ওপর ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা বহাল রয়েছে।

এমনকি বর্তমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ ২০১৯ সালের ওই সিএএবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফলে বর্তমান আন্দোলনটি সেই পদ্ধতিগত বৈষম্যকে চ্যালেঞ্জ জানাবে, নাকি কেবল এই প্রক্রিয়ায় নতুন করে ফেঁসে যাওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় পার্লামেন্টে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাস হয়। এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তিনটি প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা নিপীড়িত ছয়টি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ করা হয়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান ধর্ম ইসলামকে এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়।

এই আইনের মূল ঝুঁকিটি তৈরি হয়েছিল সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় সাংবাদিকদের কাছে তৎকালীন বিজেপি নেতা ও বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘ঘটনাক্রমটি বুঝুন।’ তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, প্রথমে নাগরিকত্ব বিল আনা হবে এবং তার পরে আসবে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি)। এই দেশব্যাপী নাগরিক পঞ্জির মাধ্যমে জনগণকে নাগরিকত্ব প্রমাণের নির্দেশ দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে পার্লামেন্টেও অমিত শাহ নিশ্চিত করেন যে, সারা দেশে এনআরসি বাস্তবায়ন করা হবে।

মুসলিম সম্প্রদায় এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা দ্রুত উপলব্ধি করতে পেরেছিল। নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ যেকোনো ব্যক্তিই এই তালিকা থেকে বাদ পড়ার চরম ঝুঁকিতে ছিলেন। যেখানে দুবেলা অন্ন বা বাসস্থানের সংস্থান করতেই সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে তারা কীভাবে পুরোনো নথি জোগাড় করবেন—যেগুলো সংরক্ষণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা আগে ছিল না। আর সিএএ আইনের মাধ্যমে মুসলিম ছাড়া বাদ পড়া বাকি সবাইকে নাগরিকত্বে ফিরিয়ে আনার পথ রাখা হয়েছিল।

এর প্রতিবাদে দিল্লির শাহিনবাগে কনকনে শীতের মধ্যেও মুসলিম নারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। তাদের আন্দোলন কেবল ভবিষ্যৎ এনআরসির বিরুদ্ধে ছিল না, বরং ধর্মীয় ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতাও ছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, তার সরকার দেশব্যাপী এনআরসি নিয়ে কখনো আলোচনা করেনি। দেশের একটি বড় অংশ তখন তার কথা বিশ্বাস করেছিল।

ছয় বছর পর ভিন্ন নামে এবং ভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে আবারও সেই নথিপত্রই তলব করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেওয়ার সময় নির্বাচন কমিশন ‘অবৈধ বিদেশি অভিবাসীদের নাম অন্তর্ভুক্তি’ বন্ধ করার বিষয়টি অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে। এই যাচাই প্রক্রিয়ার নথির শর্তগুলো মূলত ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই এবং ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের জন্মতারিখের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। কারও জন্ম যত পরে হয়েছে, তাকে পিতা-মাতার তত বেশি পুরোনো নথি জমা দিতে হচ্ছে। এমনকি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, ২০০৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব যাচাই করা হচ্ছে। অর্থাৎ, সরকার প্রকাশ্যে কোনো এনআরসি ঘোষণা না করলেও ভোটার তালিকাকেই কার্যত নাগরিকত্বের তালিকা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে পার্লামেন্টে অমিত শাহ দাবি করেন, এসআইআর কর্মসূচির লক্ষ্য হলো অনুপ্রবেশকারীদের ‘চিহ্নিত করা, বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার করা’। তিনি উদ্দেশ্য বিবেচনায় শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীদের আলাদা করেন। তার ভাষ্যমতে, ধর্মের কারণে নিরাপত্তার খোঁজে যারা আসেন তারা শরণার্থী, আর অর্থনৈতিক কারণে আসা ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশকারী। সিএএ আইনেও মূলত এই বিভাজনকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ভারতের রাজনীতিতে ‘ঘুসপেঠিয়া’ বা অনুপ্রবেশকারী শব্দের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নিশানা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে ‘বাংলাদেশি মুসলিমদের ছাঁটাই’ করা হবে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো প্রকাশ করেনি যে, এই প্রক্রিয়ায় কতজন বিদেশি শনাক্ত হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে এই পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ায় এর ফলাফল স্পষ্ট হয়েছে। এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যটির ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়, যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। একটি বুথভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাদ পড়াদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন হিন্দু। প্রথম ধাপে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা নকল হিসেবে ভোটারদের যখন বাদ দেওয়া হয়, তখন হিন্দু ও মুসলিমদের সংখ্যা ছিল জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী।

তবে দ্বিতীয় ধাপে এসেই কর্তৃপক্ষের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি সামনে আসে। প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের তথ্যে ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ পাওয়ার দাবি করে তাদের আবেদনগুলো বিচারিক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। এই অসঙ্গতি ছিল অত্যন্ত সামান্য; যেমন ২০০২ সালের তালিকায় বাবার নামের বানানের সঙ্গে বর্তমান বানানের সামান্য অমিল। এই বিচারিক কর্মকর্তারা প্রায় ২৭ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেন। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই দ্বিতীয় ধাপে বাদ পড়াদের মধ্যে পদবি অনুযায়ী প্রায় ৭০ শতাংশই ছিলেন মুসলিম। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা মোট ভোটারের মাত্র এক-চতুর্থাংশ। কলকাতার সাবার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা দেখেছেন, মুসলিমরা পুরোনো তালিকায় নিজেদের পারিবারিক যোগসূত্র অনেক ভালোভাবে দেখাতে পেরেছিলেন এবং কর্মকর্তারা পরিদর্শনে যাওয়ার সময় তারা বাড়িতে উপস্থিতও ছিলেন। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া পর্যায়ে এসে তাদের ব্যাপকভাবে বাদ দেওয়া হয়।

গত বছর অক্টোবরে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সীমান্ত জেলাগুলোতে হিন্দু শরণার্থীদের সিএএর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন করতে সহায়তা করার জন্য প্রায় ৭০০টি শিবিরের পরিকল্পনা করে রাজ্য বিজেপি। এর পরিষ্কার বার্তা ছিল যে, আবেদনকারীরা ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম বহাল রাখতে পারবেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাদ পড়া একজন হিন্দু শরণার্থীর জন্য আইনে সুরক্ষা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও একই নথির ঘাটতিতে পড়া মুসলিম পরিবারের সামনে দীর্ঘসূত্রতায় ভরা ট্রাইব্যুনাল ছাড়া কোনো পথ থাকে না।

এই বাদ পড়ার প্রক্রিয়া কেবল পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নেই। দিল্লিতে ৩১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। শাহিনবাগ ও জামিয়া নগর অন্তর্ভুক্ত দিল্লির ওখলা বিধানসভা আসনে ভোটারের সংখ্যা কমেছে ৪৫ শতাংশ। এমনকি দলিত প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত প্যাটেল নগর আসনেও ৪২ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ গেছে।

মুসলিমদের বাইরে অন্য সম্প্রদায়ের নাগরিকরাও এখন ভোটার তালিকায় নিজেদের অধিকার প্রমাণে সংকটের মুখোমুখি হওয়ায় আইনি সুরক্ষার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে এই সুরক্ষা কাদের জন্য চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

চলমান আন্দোলনের দাবিগুলো পর্যালোচনা করলেই এই বাস্তবতার প্রমাণ মেলে। ৩০ সেপ্টেম্বর বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স’ (ইন্ডিয়া) তাদের কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ, এসআইআর পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা পুনর্বহাল, ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ, আপিলের সুযোগ এবং ‘প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক ভুলের কারণে প্রকৃত ভোটারদের বাদ পড়া থেকে সুরক্ষা’।

এই দাবির শেষ অংশে মূলত দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তাদের হাত থেকে তথাকথিত ‘প্রকৃত’ ভোটারদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র যাদের ‘প্রকৃত নয়’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে—যাদের বড় অংশই পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম হিসেবে চিহ্নিত—তাদের সুরক্ষার বিষয়ে এই দাবিতে কোনো বক্তব্য নেই। চলতি মাসে অমিত শাহ বিরোধীদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগ আনেন। জবাবে কংগ্রেস পাল্টা প্রশ্ন তোলে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আসলে কতজন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে এবং অমিত শাহের দায়িত্বে থাকাকালে অনুপ্রবেশ বেড়েছে কি না। এটি সরকারের সমালোচনা হিসেবে করা হলেও প্রকারান্তরে শাহের অনুপ্রবেশকারীসংক্রান্ত বয়ানটিকেই মেনে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা নেতাদের অনেকেই এসআইআর চালুর অনেক আগে থেকেই এই মনোভাব পোষণ করতেন। ৪ অক্টোবর পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইতে এই তালিকা সংশোধন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন দুই ভাই উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরে। অথচ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজ ঠাকরের দল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে পদযাত্রা করেছিল। সেখানে তারা পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ বিতাড়নের দাবি জানায়। রাজ ঠাকরে একে সিএএবিরোধী আন্দোলনের একটি ‘উপযুক্ত জবাব’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং তিনি মুসলিমদের সিএএ ও এনআরসি বিরোধিতার কারণ বুঝতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক স্বার্থে যাদের দাবিকে ‘অস্বস্তিকর’, ‘অতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক’ কিংবা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করার জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচনা করা হয়, তাদের অধিকার রক্ষা করা হচ্ছে কি না—তার ওপরই প্রকৃত সংহতির পরীক্ষা নির্ভর করে।

একই কারণে সিএএবিরোধী আন্দোলনের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গটিও বর্তমান আন্দোলনের বাইরে রাখা যায় না। ২০২০ সালের দিল্লির সহিংসতার ঘটনায় কথিত বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলায় অধিকারকর্মী উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম এখনো কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাদের এই মামলা লাখ লাখ ভোটারের বাদ পড়ার উদ্বেগের বিকল্প কোনো বিষয় নয়। তাদের এই দীর্ঘ কারাবাস মূলত আরেকটি পরীক্ষা যে, বর্তমান আন্দোলনকারীরা ২০১৯ সালে সিএএবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত কি না।

২০১৯ সালের অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান আন্দোলন যদি সত্যিই শিক্ষা নিয়ে থাকে, তবে তাদের সিএএ আইনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে এবং দিল্লির ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দিদের মুক্তির দাবি তুলতে হবে। আন্দোলন যদি কেবল পুরোনো ভোটার তালিকা ও কাগজের ব্যালটেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা কেবল এসআইআরের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কিছুটা সুরক্ষা দেবে; কিন্তু ছয় বছর আগে মুসলিমরা যে বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ অক্ষত থেকে যাবে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.