আপনি পড়ছেন

দেশজুড়ে বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের একাধিক শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ চালায়। শনিবার দেশব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচিতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

ফ্রান্সে দেশজুড়ে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ
ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করছে পুলিশ

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শুরুতে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে ৬৫টি কর্মসূচিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির লিয়ন ও গ্রেনোবল শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ইনফো জানায়, লিয়ন শহরের প্লাস জ্যঁ মেস এলাকার কাছে অনুমোদিত পথ পরিবর্তন করে নগর কেন্দ্রের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন একদল বিক্ষোভকারী। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রিফেকচার জানায়, লিয়নে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৯ হাজার। সেখানে সংঘর্ষে একজনের পায়ে সামান্য আঘাত লাগে এবং ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গ্রেনোবল শহরের প্লাস গুস্তাভ রিভেতের কাছেও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। সেখানে বিক্ষোভকারীদের পদযাত্রা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ইজের প্রিফেকচার জানায়, শহরটিতে ৭ হাজার ৩০০ জন অংশ নেন। ‘ব্ল্যাক ব্লক’ হিসেবে পরিচিত প্রায় ২০০ জনের একটি দল পদযাত্রাটি বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়ে মারে।

বন্দর নগরী মার্শেইতে একটি অননুমোদিত পদযাত্রার সামনের সারিতেও সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা বুলেভার্ড শেভ অবরোধ করে রাখা দাঙ্গা পুলিশের ওপর ফুটপাতের পাথর ছুড়ে মারেন। পুলিশ পাল্টা চড়াও হলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সেন্ট-চার্লস রেলস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। স্থানীয় প্রিফেকচারের তথ্যমতে, সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করা হলে সেখানে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া তুলুজ, রেনে ও নঁতে শহরেও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হাতাহাতি এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

রাজধানী প্যারিসে পোর্ত দে বানিয়োলে থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা অনুমোদিত শেষ সীমানা পোর্ত দে শারঁতোঁ পর্যন্ত পৌঁছায়। পদযাত্রাটি মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে দ্বাদশ অ্যারনডিসমেন্টে কর্মসূচির শেষভাগে এসে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেখানে একটি বিস্ফোরক জাতীয় বস্তুর আঘাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০০ থেকে ৩০০ জন ‘দাঙ্গাবাজ’ সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

একাধিক শহরে এসব সংঘাত সত্ত্বেও বিকেলের মাঝামাঝি সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারাদেশের পরিস্থিতিকে ‘সাধারণত শান্ত ও কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়া’ বলে বর্ণনা করে। তারা আরও জানায়, আগের আন্দোলনের দিনগুলোর তুলনায় এবার উপস্থিতি ছিল কম। এর আগে ২৪ অক্টোবর ১০৮টি কর্মসূচিতে ৩৭ হাজার এবং ১৭ অক্টোবর ১৯৮টি কর্মসূচিতে ৬৭ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

তবে বিকেল ৫টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরবর্তী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশজুড়ে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীতেই উপস্থিত ছিলেন ৭০ হাজার মানুষ। অপরদিকে যুব ট্রেড ইউনিয়ন জোটের দাবি, দেশব্যাপী উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫ লাখ, যার মধ্যে কেবল প্যারিসেই অংশ নেন ২ লাখ মানুষ।

বোর্দো শহরে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী বিক্ষোভকারী ছিলেন ১১ হাজার জন। তবে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর দাবি অনুযায়ী সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ সমবেত হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ২৯৬ জনকে আটক করা হয়। প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচার জানায়, সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৬১ জনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশজুড়ে মোট ৪২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টার আপডেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বেশ কয়েকটি শহরে ‘উগ্রপন্থী উপাদান’ দলগুলো ক্ষয়ক্ষতি সাধন ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে নগর কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করে। সে সময়ও বিভিন্ন স্থানে সংঘাত চলছিল। তবে ২৪ অক্টোবরের একই সময়ের তুলনায় আটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

গত তিন সপ্তাহের মধ্যে ফ্রান্সে এটি ছিল সামাজিক আন্দোলনের তৃতীয় দিন। ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন উৎসবকে সামনে রেখে কর্তৃপক্ষ এই দিনটিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সহিংসতা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ ‘কঠোরতম ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিস, লিয়ন ও গ্রেনোবলের কিছু অংশে এবং উত্তর ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। তবে তুর শহরে একটি প্রশাসনিক আদালত পরিকল্পিত কারফিউ বাতিল করে কেবল বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.