আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টারের বিস্তার নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডিজিটাল তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোর কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, আকাশচুম্বী বিল এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কায় তীব্র গণবিক্ষোভ চলছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেটা সেন্টার নিয়ে তুমুল বিতর্ক
ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড সিটি হলের সামনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সান ফ্রান্সিসকো ও ওকল্যান্ডসহ এই অঞ্চলের অন্তত সাতটি শহর ডেটা সেন্টার নির্মাণের ওপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। ওকল্যান্ড সিটি হলের সামনে সম্প্রতি রোবটের প্রতীকী পোশাক পরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের মুখে ৬ অক্টোবর শহরটিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘কমিউনিটিজ ফর আ বেটার এনভায়রনমেন্ট’-এর কর্মী কার্লোস গুতিয়েরেজ বলেন, ‘ওকল্যান্ডে বিদ্যুতের দাম এত বেড়েছে যে কিছু মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের কথা ভাবছেন। আর শহর কর্তৃপক্ষ উল্টো ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।’

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৩ হাজারের বেশি ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে এবং আরও দেড় হাজারের বেশি প্রক্রিয়াধীন। ওপেনএআই, মেটা ও অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল বে এরিয়ায় তৈরি এসব সেন্টারের জন্য দিনরাত বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণ পানির ব্যাপক প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত তাপ নির্গমনের কারণে এসব অবকাঠামো ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

আসন্ন মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দীর্ঘদিনের নেত্রী ন্যান্সি পেলোসির ছেড়ে দেওয়া আসনেও ডেটা সেন্টার বিতর্ক প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। প্রতিনিধি পরিষদে ৩৯ বছর দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের শেষে অবসরে যাচ্ছেন তিনি। তার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী সান ফ্রান্সিসকো সুপারভাইজার কনি চ্যান কঠোর নীতিমালার দাবিতে দেশজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চ্যান বলেন, ‘চলুন ডেটা সেন্টারের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েই শুরু করা যাক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের সেই সুযোগ দিন।’ অন্যদিকে স্টেট সিনেটর স্কট উইনার যেকোনো নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বলেন, ‘পাইকারি হারে ডেটা সেন্টার স্থগিতাদেশ জারি করা হলে তা এআই সংক্রান্ত নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’ অক্টোবরের মাঝামাঝি সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে উইনার ৪৭ শতাংশ সমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে চ্যানের সমর্থন ৪১ শতাংশ।

জনমত জরিপেও ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট। সিএনবিসির এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ নিবন্ধিত মার্কিন ভোটার তাদের বসতবাড়ির ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধী। সান ফ্রান্সিসকোর রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাম প্রেস্টন জানান, ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা বর্তমানে মার্কিন জনগণকে সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ করেছে। শহরগুলোর দেওয়া ৪৫ দিনের সাময়িক স্থগিতাদেশ শেষ হলে নির্বাচনের পর এ নিয়ে বিতর্ক ও শুনানি আরও তীব্র হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব ও আইনি জটিলতা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সান ফ্রান্সিসকোর স্থগিতাদেশের উদ্যোক্তা সুপারভাইজার শামার্ন ওয়ালটন ১৪ সেপ্টেম্বরের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘২০২৬ সালের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা ২০০১ সালের পুরনো নিয়ম ব্যবহার করতে পারি না।’ তৎকালীন সংজ্ঞার কারণে বর্তমানে শহরে কতটি ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং সেগুলোর পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কেমন, তা নিশ্চিত করতে পারছে না প্রশাসন। পরিবেশবাদী সংস্থা ‘সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি’-এর জ্যেষ্ঠ অ্যাটর্নি রজার লিন বলেন, ‘প্রভাব পর্যালোচনা ও গবেষণা করে নীতিমালা তৈরির জন্য ৪৫ দিন কোনোভাবেই যথেষ্ট সময় নয়।’ তিনি আরও জানান, ডেটা সেন্টারগুলোর গোপনীয়তা সংক্রান্ত চুক্তির কারণে স্থানীয় বায়ুমান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষও সঠিক তথ্য পায় না।

শিল্পের সমর্থকেরা অ্যানথ্রপিকের আইপিও এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির আশা দেখালেও স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল ধনীদের সুবিধার আশঙ্কা করছেন। সান ফ্রান্সিসকো সিটি হলে এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, ‘এই শহরটি মানুষের জন্য কম, বরং রোবট আর শতকোটিপতিদের জন্য বেশি উপযোগী হয়ে উঠছে।’

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.