আপনি পড়ছেন

ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকা বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করতে বুধবার থেকে দেশটির ২৬তম নেসেটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।

সরকার গঠন নিয়ে বিরোধীদের দ্বন্দ্বে কোণঠাসা নেতানিয়াহু
জেরুজালেমে এক সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ব্লক পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের দল ‘ইয়াশার’-এর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য নূন্যতম ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। এই সমীকরণে আরবভিত্তিক দুই দল ‘জয়েন্ট লিস্ট’ (১১ আসন) ও ‘রাম’ (৮ আসন) মিলে পাওয়া মোট ১৯টি আসন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তুরুপের তাস বা প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে। জয়েন্ট লিস্টের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা প্রথম প্রার্থী হিসেবে আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী করার সুপারিশ করতে পারে। আরব দল দুটি একযোগে সমর্থন দিলে বিরোধী জোট অনায়াসেই প্রয়োজনীয় ৬১ সদস্যের সমর্থন অতিক্রম করবে।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সবচেয়ে কম আসন পাওয়া দলগুলো দিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রথম দিন ছয়টি করে আসন পাওয়া রিলিজিয়াস জায়োনিজম-জেহুত ও শাস এবং সাত আসন পাওয়া ইসরায়েল বেইতেনুর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বাকি দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন হারজোগ। এর মধ্যে রয়েছে সাতটি করে আসন পাওয়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত, আটটি করে আসন পাওয়া দ্য ডেমোক্র্যাটস ও রাম, ১২ আসন পাওয়া বেইয়াহাদ, ২১ আসন পাওয়া ইয়াশার এবং সর্বোচ্চ ২৭ আসন পাওয়া লিকুদ পার্টি। রিলিজিয়াস জায়োনিজম-জেহুত, ওতজমা ইয়েহুদিত এবং শাস নিশ্চিত করেছে যে তারা নেতানিয়াহুর নামই সুপারিশ করবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সোমবার দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলের জনগণ এমন কোনো সরকার চায় না যা রাম ও জয়েন্ট লিস্টের ওপর নির্ভরশীল। দল দুটি সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, দেশের ইহুদি ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ লিকুদকে বৃহত্তম দল হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায়। সন্ত্রাসবাদে সমর্থন নেই এমন যেকোনো দলের সঙ্গে বৃহত্তর সরকার গঠনে তিনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাওয়া আইনপ্রণেতা জোট গঠনে প্রাথমিক পর্যায়ে ২৮ দিন সময় পাবেন, যা পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারবেন। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আমির ওরেন মনে করেন, সাংবিধানিকভাবে প্রেসিডেন্ট স্বাধীন হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থনপুষ্ট ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেওয়া নিয়ম। ফলে আইজেনকোট প্রথম সুযোগ পেলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তার সফল হওয়া কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কট্টর জাতীয়তাবাদী মনোভাবের কারণে বেইয়াহাদ নেতা নাফতালি বেনেট কিংবা ইসরায়েল বেইতেনু প্রধান আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকারে যোগ দিতে রাজি হবেন না। তবে বাইরে থেকে আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের একটি তাত্ত্বিক সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে নির্বাচনের পরপরই এমন সংখ্যালঘু সরকার না হলেও মেয়াদের মাঝামাঝি এ ধরনের নজির দেখা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড্যান ডিকার ও সাবেক নেসেট সদস্য ডভ লিপম্যান মনে করেন, আইজেনকোট ব্যর্থ হলে সুযোগ যাবে নেতানিয়াহুর কাছে। তিনিও ব্যর্থ হলে শুরু হবে ২১ দিনের বিশেষ মেয়াদ, যেখানে যেকোনো আইনপ্রণেতা ৬১ জনের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারবেন। সংকট এড়াতে আইজেনকোট হয়তো নেতানিয়াহুর অধীনে দুই বছর দায়িত্ব পালনের শর্তেও রাজি হতে পারেন। তবে ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের শপথের পর স্পিকার পরিবর্তন ও আইন পাসের মাধ্যমে নেতানিয়াহুকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাতে পারে বিরোধীরা। তাছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে, যা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তেজনা কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো পদক্ষেপে জটিলতা বাড়াবে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো অধ্যাপক গিদিওন রাহাত জানান, ২০২০ সালে বেনি গান্টজের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগির চুক্তি রক্ষা না করার অতীত রেকর্ডের কারণে বিরোধীরা নেতানিয়াহুকে সহজে বিশ্বাস করবে না। তবে তিনি ১৯৮৪-১৯৮৮ মেয়াদের জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের উদাহরণ টেনে বলেন, লেবানন যুদ্ধ ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে তখন লিকুদ ও লেবার পার্টি পর্যায়ক্রমে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠিত হলে বিচার বিভাগীয় সংস্কার স্থগিত রাখা, ৭ অক্টোবরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নেতানিয়াহুর পদত্যাগের স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে হবে। সামগ্রিক এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলে শতকোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.