রিজভী: ‘হাসিনার প্রত্যাবর্তন জনগণ কখনোই মেনে নেবে না’
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বাংলাদেশের জনগণ কখনোই মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ৮ নভেম্বর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার দেওয়া আত্মত্যাগ কি বৃথা যেতে দেওয়া হবে?

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার কঠোর সমালোচনা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘এত রক্ত ঝরিয়ে এবং দেশটাকে এত নির্মমভাবে শাসন করে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে ডিসেম্বরে ফিরবেন। আমরা যে মহাকাব্যিক বিপ্লব দেখলাম, যেখানে বহু শিশু, কিশোর ও তরুণ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করল এবং পিছপা না হয়ে গুলির মুখে দাঁড়াল, তা কি বৃথা যাবে?’ তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আহাদ, ওয়াসিম আকরাম ও ফাইয়াজের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লব কখনো বৃথা যেতে পারে না বলে উল্লেখ করেন।
হাসিনার ফিরে আসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা কি দেশে প্যারাস্যুট দিয়ে নামবেন আর সবাই তাকে ঢোল বাজিয়ে বরণ করে নেবে? বীরের এই বাংলায় যারা কাপুরুষের মতো পালিয়ে গেছে এবং দেশের সন্তানদের রক্ত ঝরাতে দ্বিধা করেনি, তারা উড়ে এসে জনগণের ওপর নিজেদের চাপিয়ে দিতে পারবে না। শেখ হাসিনা অতীতে তার বাবার চেয়েও ভয়াবহ রূপের বাকশাল কায়েম করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থন থাকায় অনেকে আওয়ামী লীগ সরকারকে হটানো অসম্ভব মনে করত বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তবে তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করে যেকোনো পরিসরে আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছিলেন বলে জানান।
স্বাধীনতার পরবর্তী ইতিহাস তুলে ধরে রিজভী বলেন, তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করলেই মানুষ গুম হয়ে যেত কিংবা তাদের মরদেহ পড়ে থাকত। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করতেই রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল এবং বাহিনীটি ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা সবাই আওয়ামী লীগেরই লোক ছিলেন। খন্দকার মোশতাক আহমেদসহ তার মন্ত্রিসভার সবাই আগের দিন পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় ছিলেন। ফলে সেই রক্তপাত তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই হয়েছিল।
রিজভী বলেন, ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান এবং জিয়াউর রহমানকে পরিবারসহ গৃহবন্দি করার পর দেশে এক দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান দেশকে সেই সংকট থেকে মুক্ত করে এবং জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। তিনি দাবি করেন, আজকের আধুনিক ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী জিয়াউর রহমানেরই অবদান।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের স্বার্থে রক্ষীবাহিনী তৈরি করে সেনাবাহিনীর চেতনা ধ্বংস করেছিল বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, কর্নেল তাহের ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লোভে সেনানিবাসের অভ্যন্তরে সৈনিকদের সংগঠন তৈরি করে শৃঙ্খলা নষ্ট করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে জিয়াউর রহমান যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করেন এবং চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সূচনা হয়।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.