advertisement
আপনি দেখছেন

ভারতে ‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল রোববার সন্ধ্যা থেকে রাতভর বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এর মাঝেই পুলিশ প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীকে আটক করে। পরে তাদের ছড়িয়ে আনেন জামিয়া মিলিয়ার ভাইস চ্যান্সেলর নাজমা আখতার। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

jamia milia vcজামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নাজমা আখতার

সংবাদ সম্মেলনে নাজমা আখতার বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এমন হামলা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে লাইব্রেরিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পিটিয়েছে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এ সময় ভিসি বলেন, এ লড়াইয়ে শিক্ষার্থীরা একা নন। আমি ও পুরো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাথে আছি।

সকল আটক শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, শিক্ষার্থী নিহত হবার যে খবর বেরিয়েছে তা সম্পূর্ণ গুজব। এমন কিছুই ঘটেনি।

রোববার রাতে পুলিশি তাণ্ডবে প্রায় আহত প্রায় ২০০ জন আহত হন। নাজমা আখতার জানান, এদের মধ্যে বেশিরভাগই জামিয়ার শিক্ষার্থী। তবে কেউ নিহত হয়নি।

টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ থেকে শুরু করে, মসজিদে ও লাইব্রেরিতে ঢুকে নির্বিচারে পেটানো হয় শিক্ষার্থীদের। এমনকি টয়লেটে আশ্রয় নেয়া ছাত্রীদেরকেও লাঠিপেটা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

jamia milia studentsআজ সকালে প্রতিবাদরত জামিয়া শিক্ষার্থীরা

ঘটনার প্রতিবাদে মধ্যরাতেই হায়দারাবাদের মওলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি বোম্বে, কলকাতার যাদবপুর বিস্ববিদ্যালয়, পন্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়েও পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং গুজব যেন না রটে সেজন্য পাটনায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে জামিয়ায় পুলিশি তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির বামফ্রন্ট নেতারা। দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারত কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআই সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা যার বা যাদের নির্দেশে ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকে আক্রমণ চালিয়ে শিক্ষার্থীদের আটক এবং পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছেন।

এ আক্রমণ গণতন্ত্র ও সংবিধানের ওপর আঘাত বলেও তারা উল্লেখ করেন।