advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 14 মিনিট আগে

চলতি সপ্তাহেই ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্টের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সমীক্ষায় নেতিবাচক র্যাং কিংয়ে চলে আসে ভারতের নাম। গণতন্ত্র সূচকে দশ ধাপ নিচে নামে ভারত। এবার সেই দ্য ইকোনমিস্টের সংস্করণে আরও ধারালো সমালোচনা করা হলো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।

modi india the economist

ইকোনমিস্টের এ সংখ্যার কভার স্টোরি ভারতকে নিয়ে। যার শিরোনাম হলো- “অসহিষ্ণু ভারত। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দিলেন নরেন্দ্র মোদি।”

মূলত, জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) প্রেক্ষাপটে ভারত জুড়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সেই প্রসঙ্গেই এই সমালোচনা করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।

ইকোনমিস্টের মতে, ভারতের বহুত্ববাদ ও ভারতীয়ত্বের ধারণাতেই আঘাত হেনেছে মোদি-শাহের রাজনীতি। তাদের রাজনৈতিক কৌশলকে সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে তুলনা টানা হয়েছে।

ইকোনমিস্ট মনে করছে, বিজেপি দেখাতে চাইছে যে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করতে ১৩০ কোটি ভারতবাসীর একটি জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তৈরি হবে। সেটাকে স্রেফ একটা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু দেশের ২০ কোটি মুসলমান তাতে ভীত। তারা এই ভেবে আতঙ্কিত যে, নরেন্দ্র মোদি ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিএএ নিয়ে ভারত জুড়ে বিরোধিতা দেখে আপাতত হয় তো অনেকে মনে করছেন যে, বিজেপির হিসেবে হয়তো ভুল হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, দেশকে ধর্ম ও পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজিত করে বিজেপি ও মোদি আখেরে রাজনৈতিক ফায়দা তুলবে। তার থেকেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, মোদি ও বিজেপির জন্য যা অমৃত তা আসলে ভারতীয় রাজনীতির জন্য বিষ।

ইকোনমিস্ট বলছে, এই বিভাজনের খেলা খেলেই ভারতীয় রাজনীতিতে উত্থান হয়েছে বিজেপির। কখনও রামমন্দির আন্দোলন করে, কখনও গুজরাটে দাঙ্গা বাঁধিয়ে মুসলমান নিধন করে ক্রমশ রাজনৈতিক সাফল্য পেয়েছে তারা। অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব ইত্যাদির মতো প্রকৃত সমস্যা থেকে চোখ ঘোরাতেই বিজেপি এসব করছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, ইকোনমিস্টের এসব মন্তব্যের পাল্টা সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র বিজয় চৌথাইওয়ালে বলেছেন, “ব্রিটিশরা ৪৭ সালে ভারত ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু ইকোনমিস্টের সম্পাদকের মধ্যে এখনও ঔপনিবেশিক মানসিকতা রয়ে গেছে। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের ডাহা ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।”

sheikh mujib 2020