advertisement
আপনি দেখছেন

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আজ মহাবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে এই বিক্ষোভ হয়। আয়োজকরা দাবি করেছেন, অন্তত ২৫ লাখ লোক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

protests in iraq against us

গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরাক ও ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন সেনা-কর্মকর্তা নিহতের পর দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে দাবি উঠেছে।

ইতোমধ্যে ইরাকের পার্লামেন্টে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি বিল বিপুল ভোটে পাস হয়েছে। এর পরই আজকের এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।

ইরানি গণমাধ্যম বলছে, ইরাকি সেন্টার ফর স্টাডিজ নামক প্রতিষ্ঠানের প্রধান সাইয়্যেদ সাদিক আল হাশেমি দাবি করেছেন, শুক্রবারের এই গণ-মিছিলে ২৫ লাখেরও বেশি ইরাকি অংশ নিয়েছেন। নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের ইরাকি বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জারদিয়া অঞ্চলে সমবেত হন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা- বেরিয়ে যাও বেরিয়ে যাও দখলদার আমেরিকানরা, আমেরিকা ও ইসরায়েল নিপাত যাক, মার্কিনিদের প্রতি না, শয়তানের প্রতি না, ইসরায়েলের প্রতি না ও ইরাকি সার্বভৌমত্বের প্রতি হ্যাঁ -এসব স্লোগান দেন। তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকা পদদলিত করেন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

পার্সটুডে বলছে, ইরাকের পবিত্র শহর কারবালাসহ দেশটির প্রত্যেক প্রদেশ ও শহর থেকে লোকজন বাগদাদের এই মহাবিক্ষোভে যোগ দেন। এ উপলক্ষে বাগদাদের আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ইরাকের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা মোক্তাদা সাদর মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে গণ-বিক্ষোভে যোগ দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া ইরাকের নানা গোত্রের প্রধান, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো মার্কিন বিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যোগ দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ইরাকের আধা-সামরিক বাহিনী হাশদ্ আশ শাবি বা পপুলার মোবিলাইজেশন ফ্রন্টের একজন নেতা আজকের এই মহাবিক্ষোভকে ১৯২০ সালের ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবের মতো দ্বিতীয় বিপ্লব বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই আজকের এই দিনকে স্বাধীনতার শুক্রবার বা জাতীয় সার্বভৌমত্বের দিবস বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে আজকের এই মার্কিন-বিরোধী গণ-বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রখ্যাত ইরাকি নেতা মোক্তাদা সাদর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সেনাদের ইরাক থেকে সরিয়ে নেয়া না হলে তাদের সঙ্গে দখলদার ও শত্রুর মতো আচরণ করা হবে।

তিনি মার্কিন সরকারের সঙ্গে সব সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি বাতিল করতে এবং ইরাকে সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।