advertisement
আপনি দেখছেন

রোববার স্থানীয় রাত নয়টা থেকে নয় মিনিট বাতি নিভিয়ে পুরো জাতিকে একাত্মতা প্রকাশের নির্দেশনা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার ডাকে সাড়া দিয়ে একশ ৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারত রোববার রাতে বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দিয়ে নয় মিনিট মোম বা ফোনের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে রাখে। মোদির মতে, এরই মাধ্যমে ভারত করোনা ভাইরাসে অন্ধকার থেকে আলোতে ফেরার পথ খুঁজে নিবে।

india switched off the lights to get out of the darkness

মোদির এই কাণ্ডকে সমালোচকরা ‘ভাউতাবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলছেন, দেশকে উদ্ভুত বিপদ থেকে এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাময় সময়ের চিন্তা থেকে অন্য দিকে ধাবিত করার জন্যই মোদি এটি করেছেন।

কোনো রকম পূর্ব সতর্কতা ছাড়া গত ২৫ মার্চ ভারত সরকার পুরো দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে। এতে বহু লোক অসহায় হয়ে পড়েছেন এবং অনেকে খাদ্যের অভাবে ভুগছেন। এ কারণেও সমালোচকরা মোদি সরকারের দূরদর্শীতার অভাবকে দায়ী করেছন।

জন হপকিনসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ভারতে করোনা ভাইরাসে পজিটিভ হওয়ার সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং একশর বেশি মানুষ মারা গেছেন।

যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি। কারণ দেশটিতে করোনা টেস্টের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। যদিও দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠার আপ্রাণ চেষ্ট করে যাচ্ছে।

বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ মতামতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ভারত পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ফলে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যথাসময়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

দেশটিতে এরই মধ্যে লকডাউনের কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় নয়, এ রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া যে কোনো ধরনের গনজমায়েতও আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

এই লকডাউনের ফলে বিপদে পড়েছেন প্রচুর অভিবাসী শ্রমিক। যারা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে এসে কাজ করছিলেন। বাধ্য হয়ে শত শত মাইল হেঁটে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের। মোদি সরকার এই ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর পদক্ষেপ হিসেবে এ ছাড়া আর কিছু করার ছিলো না।