advertisement
আপনি দেখছেন

দীর্ঘ বছর মুসলমানদের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এটি। কিন্তু ৮৮ বছর সেখানে শোনা যায়নি সুমধুর আজানের ধ্বনি। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো, ভেসে আসলো মুয়াজ্জিনের সেই পরিচিত, অথচ নতুন ডাক নামাজের দিকে এসো, কল্যাণের দিকে এসো।

hagia sofiaঐতিহাসিক হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ

চুক্তি অনুযায়ী ঐতিহাসিক হাজিয়া সোফিয়া জাদুঘর করা হলে তা আইনত বৈধ হবে না- গতকাল শুক্রবার তুর্কি আদালতের এমন রায়ের পর ইস্তাম্বুলের বিশ্বখ্যাত সেই ‘মসজিদে’ আজান দেওয়া হয়েছে। এতোদিন এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। যদিও চূড়ান্ত রায় আগামী ১৭ জুলাই হওয়ার কথা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সরকার হাজিয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করার ঘোষণা দেয়। এর পর তা আদালতে গড়ায়। কারণ জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করে।

hagia sofia01ঐতিহাসিক হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ

দেড় হাজার বছরের পুরনো হাজিয়া সোফিয়া প্রথমে ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা। অটোমান শাসনামলে সেটিকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়। পরে তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ সরকার এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে।

এদিকে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান বলেছেন, আদালতের রায়ের পর হাজিয়া সোফিয়া নামাজ পড়ার জন্য খুলে দেওয়া হবে।

এক টুইট বার্তায় তিনি জানান, হাজিয়া সোফিয়ার সম্পত্তি তুর্কি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বিবিসি বলছে, এরপরই হাজিয়া সোফিয়াতে প্রথমবারের মতো আজান দেওয়া হয়। তুরস্কের হাবার টিভিসহ অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেল এই দৃশ্য সম্প্রচার করে।

hagia sofia02ঐতিহাসিক হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ

আল-জাজিরা জানায়, গতকাল শুক্রবার আদালত মূলত ১৯৩৪ সালের একটি চুক্তির কথা বলেছে। সে সময় আধুনিক তুরস্ক যাত্রা শুরু করলে তৎকালীন মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ থাকবে। কিন্তু পরে সে সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে আদালত বলে, এটিকে জাদুঘর রাখলে চুক্তির লঙ্ঘন হবে।

হাজিয়া সোফিয়া নির্মাণ হয় ৫৬৭ সালে। বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টেনিয়ানের তত্ত্বাবধানে এটি নির্মাণ করা হয়। সে সময় এটি চার্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পরে ১৪৫৩ সালে অটোম্যান সম্রাট মেহমেদ ওই এলাকা দখলে নিলে তা মসজিদে রূপান্তর করা হয়। এরপর ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত বিখ্যাত এই স্থাপত্য মসজিদ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে।

hagia shofia turkeyঐতিহাসিক হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ

এই স্থাপত্য মূলত তার বড় গম্বুজের জন্য বিখ্যাত। নির্মাণের পর এটিই ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দালান, যা আজও পৃথিবীর অগণিত পর্যটনপ্রেমীকে আকর্ষণ করে। একে বাইজেন্টাইন স্থাপত্যশিল্পের সবচেয়ে সুন্দর নমুনা হিসেবে দেখা হয়। এর নির্মাণের পরই বিশ্বের স্থাপত্যশিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।

হাজিয়া সোফিয়া এখনো তুরস্কের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিবছর প্রায় ৩৭ লাখ পর্যটক এটি দেখতে আসেন।

sheikh mujib 2020