advertisement
আপনি দেখছেন

বছরে গড়ে মাত্র ১২ দিন বৃষ্টি হয় মরুভূমির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। উচ্চ তাপমাত্রা আর পানির অভাবে দেশটির মাত্র ১ শতাংশ জমিতে চাষ করা সম্ভব হয়। সেখানকার বাসিন্দাদের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ৮০ শতাংশ খাবারই অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তন আর চলমান নভেল করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

vertical farmভার্টিক্যাল ফার্মিংয়ের মাধ্যমে চাষাবাদ

কারণ প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন খাদ্য উৎপাদন কমছে, তেমনি অন্যদিকে কমেছে সরবরাহও। এছাড়া সম্প্রতি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে লকডাউন জারি থাকায় মাঝখানে খাদ্য সংকটেও পড়েছিলো দেশটি। তবে এসবের মধ্যেই মরুর এই দেশটিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভার্টিক্যাল ফার্ম।

উচ্চপ্রযুক্তির খাদ্য উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। তখন থেকেই করমুক্ত সুবিধা নিয়ে খাদ্য উৎপাদনের নানা উদ্যোগ নেওয়া শুরু করে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও নবীণ উদ্যোক্তারা। তাদেরই একজন পিওর হারভেস্ট স্মার্ট ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা স্কাই কুরৎস। যিনি ভার্টিক্যাল ফার্মিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে মরুভূমিতে টমেটো চাষ করছেন।

sky kuruths পিওর হারভেস্ট স্মার্ট ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা স্কাই কুরৎস

স্কাই কুরৎস আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে বলেন, পানির সংকট আর উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চাষাবাদের জন্য খুব একটা উপযোগী মনে করা হয় না। এখানে চাষাবাদ করাটাও সত্যিই খুবই কঠিন। তিনিও যখন মরুভূমিতে টমেটো চাষ শুরুর কথা চিন্তা করছিলেন, অনেকেই তাকে পাগল ভেবেছিলো। কারণ দেশটির আবহাওয়া এ ধরনের শীতকালীন সবজি চাষের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। কিন্তু তিনি ভার্টিক্যাল ফার্মিংয়ের মাধ্যমে এখন সফলভাবেই টমেটো চাষ করছেন।

তার মতো এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষাবাদ করছেন দেশটির আরো অনেক উদ্যোক্তা। আমিরাত সরকারও নতুন এসব প্রযুক্তিতে খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহ দিতে কোটি কোটি দিরহাম বিনিয়োগ করেছে।

tomato cultivationভার্টিক্যাল ফার্মিংয়ের মাধ্যমে টমেটো চাষ

ভার্টিক্যাল ফামিংয়ের বিষয়ে স্কাই কুরৎস বলেন, এটি অনেকটা গ্রীণহাউজের মতো। যেখানে একটার ওপর আরেকটা গাছের স্তর ধাপে ধাপে রেখে শাক-সবজি চাষ করা হয়। এ প্রযুক্তিতে গাছের জন্য উপকারী আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় এলইডি লাইটের মাধ্যমে। চাষ করা গাছগুলোতে ফোটায় ফোটায় পানি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। যাতে বাড়তি পানি অপচয় না হয়। তারপরও যদি বাড়তি পানি বের হয়ে যায় তাহলে তা নিচের স্তরের গাছে চলে যায়। ফলে পানি অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই চাষ করা সম্ভব। তীব্র গরম অথবা তীব্র শীত এতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না।

স্কাই কুরৎসের মতো আরেক উদ্যোক্তা এরোফার্মের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ওশিমা। তিনি বলেন, সাধারণত জমিতে কোনো বীজ বপণ করা হলে তা থেকে ফসলের পাতা আসতে ৩০-৪০ দিন সময় লাগে। কিন্তু ভার্টিক্যাল পদ্ধতিতে চাষ করলে ফসলের পাতা আসতে সময় নেয় ১০-১২ দিন। ফলে জমি থেকে এ পদ্ধতিতে চাষে ফসল জলদি উৎপাদন হয়।

এরোফার্ম ২০২১ সালের মধ্যে ভার্টিক্যাল ফার্মিংয়ের মাধ্যমে ৮০০ প্রজাতির ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশটির সরকারের কাছ থেকে অনুদানও পেয়েছে। তারাই বর্তমানে রাজধানী আবুধাবির সবচেয়ে বড় ভার্টিক্যাল ফার্ম।

sheikh mujib 2020