advertisement
আপনি দেখছেন

পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিরোধপূর্ণ এলাকায় তুরস্কের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তিতে অবশেষে আলোচনার জন্য রাজি হয়েছে গ্রিস। তবে এক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিয়ে এথেন্স বলছে, ওই অঞ্চল থেকে তুর্কি অনুসন্ধান জাহাজটি প্রত্যাহার করার পাশাপাশি পরবর্তীতেও আঙ্কারাকে এই ধরনের ‘সঙ্কট’ তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলেই কেবল আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা।

greek pm kyriakos mitsotakisগ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস

এ বিষয়ে এথেন্সে ইইউ কাউন্সিলের সভাপতি চার্লস মিশেলের সঙ্গে আলোচনার পর গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস বলেন, সঙ্কট থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার প্রথম পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগে এবং তার পরও তুরস্কের হাতে সময় আছে। আগামী ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর ইইউ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঙ্কারা যদি এ ব্যাপারে আমাদের কাছে সঠিক প্রমাণ দিতে পারে এবং তা অব্যাহত রাখে, তাহলে অবিলম্বে তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে আমরা প্রস্তুত। তাদের সঙ্গে একমাত্র বড় বিরোধের বিষয় হলো- এজিয়ান সামুদ্রিক অঞ্চলগুলোর সীমানা এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করা নিয়ে।

গত আগস্টে বিরোধপূর্ণ ওই এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করে আঙ্কারা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত ১ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান বন্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু তা বন্ধ না করে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুসন্ধান অব্যাহত রাখে দেশটি। বিষয়টি নিয়ে ন্যাটোর সদস্যভুক্ত প্রতিবেশী এই দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। পরে নির্ধারিত সময় শেষে গত রোববার অনুসন্ধানে নিয়োজিত থাকা তুর্কি জাহাজ ওরুস রেইস দেশটির আনাতোলিয়া বন্দরে ফিরে যায়।

turkey ship searching oil gasতুর্কি জাহাজ ওরুস রেইস

গ্রিসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তুরস্কের জাহাজটি ভূমধ্যসাগরে তাদের মালিকানাধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জরিপ কাজ চালাচ্ছে। তবে তুরস্ক সে দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদেরই মালিকানাধীন এলাকাতেই অনুসন্ধান চালাচ্ছে জাহাজটি।

এমন পরিস্থিতে তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানায় গ্রিস। এমনকি ইইউ আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেয়। আর গ্রিসের পক্ষে গলা মেলাতে থাকেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নেয় সামরিক জোট ন্যাটো৷ কারণ আলোচিত তিনটি দেশই ন্যাটোর সদস্য। কিন্তু উত্তেজনা প্রশমনে তুরস্ক আলোচনায় রাজি হলেও গ্রিস দাবি করে, আগে তুরস্কের জাহাজ ওই অঞ্চল থেকে সরাতে হবে এবং হুমকি প্রদান বন্ধ করতে হবে৷

তবে এর জবাবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গ্রিস কূটনীতির ভাষা না বুঝলে মাঠে জবাব দেওয়া হবে। এই অবস্থার মধ্যেই তুর্কি নৌবাহিনীর ঘোষিত সময়সীমা শেষে বন্দরে ফিরে যায় জাহাজটি।

sheikh mujib 2020