advertisement
আপনি দেখছেন

গত বছরের মতো এবারো বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। ফলে বাংলাদেশে ইতোমধ্যে পেঁয়াজের দাম ১০০-এর ঘরে গিয়ে ঠেকেছে। সোমবার কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত।

indian farmer protest nasikপেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মহারাষ্ট্রের নাসিকের একটি বাজারে কৃষকদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ, ছবি-পিটিআই

খোদ ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মূলত মূল্য বৃদ্ধির জন্য ভারতের পক্ষ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের রপ্তানিকারক ও সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশটির পেঁয়াজ চাষী ও ব্যবসায়ীরাই।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। সেখানে ভারতীয় চাষী ও ব্যবসায়ীরা এমন সিদ্ধান্তে তাদের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

onion traders indiaভারতে আড়ৎ ভর্তি পেঁয়াজ, রপ্তানি বন্ধে হতাশ ব্যবসায়ীরাও

সংবাদ মাধ্যমটিকে এক পেঁয়াজ চাষী বলেন, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন চাষীরা। কারণ এমনিতেই চাষীরা পেঁয়াজের সঠিক দাম পান না। কম দামে কিনে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন। যেটা চাষীদের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কেনা বন্ধ করে দেবে। ফলে বিক্রি বন্ধ হওয়ায় পঁচে যাবে কৃষকের পেঁয়াজ। অর্থাৎ ক্ষতির শিকার হবে কৃষকরা। কারণ তারা কয় দিনই বা পেঁয়াজ মজুদ করে রাখতে পারবে।

অন্যদিকে, ভারতের পেঁয়াজ উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাসিকের এক ব্যবসায়ী এএনআই-কে বলেন, সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা একটি সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় আমরা ব্যবসায়ীরা আপাতত পণ্যটি মজুদ করতে পারব না। বর্তমানে চাষীরা ২০ থেকে ২৫ রুপিতে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। পেঁয়াজের ব্যাপক উৎপাদনও হয়েছে এবং চাষীরা প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ বাজারে আনছেন বিক্রির জন্য।

তিনি আরো বলেন, রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় পেঁয়াজ মজুদ করতে হবে, কিন্তু সেটা সবার পক্ষে সম্ভব হবে না। আর মজুদ করেই বা লাভ কী? এত পেঁয়াজ কোথায় মজুদ করে রাখব? সব তো পঁচে যাবে। তখন দেখা যাবে, ২-৩ রুপিতেও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না। অন্যদিকে, এত পেঁয়াজ চাষীদের পক্ষেও মজুদ করে রাখা সম্ভব না। ফলে রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী ও চাষীদেরই ক্ষতি।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ সোমবার সকালে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৫০ টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশের পরই সব বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকদের সংগঠন। এর ফলে শুধু বেনাপোলের ওপারের পেট্রাপোলে পেঁয়াজ ভর্তি শতাধিক ট্রাক আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিশর ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

sheikh mujib 2020