advertisement
আপনি দেখছেন

ভারতের মুম্বাইয়ে ৭ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের এ শহরে দুই ব্যক্তিকে আটকের পর এগুলো জব্দ করা হয়। এরপরই উত্তেজনা দেখা দেয়।

india

পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান থেকে এসব ইউরেনিয়াম এনে হামলার পরিকল্পনা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে জোর গুঞ্জন চলে। ভারতের কাউন্টার টেরোরিজম অর্গানাইজেশন ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ) নড়েচড়ে বসে। পরে পরীক্ষায় ইউরেনিয়ামগুলো প্রাকৃতিক বলে প্রমাণ পায় তারা।

এরপর গতকাল সোমবার দেশটির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জব্দ করা ইউরেনিয়াম নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। এটি নিরাপত্তার জন্যও হুমকি নয়।

তবে দিল্লিভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক দি মনোহর পারিকার ইনস্টিটিউট অব ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসেসের (আইডিএসএ) পরমাণু ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ রাজিব নয়ন বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘এ ধরনের ইউরেনিয়ামের অপব্যবহার একটি জাতির জন্য কতটা হুমকির তা আমি অতীতে দেখেছি। তত্ত্বগতভাবে জব্দ করা ইউরেনিয়ামের মাধ্যমে এটি করা সম্ভব। তবে এসব প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম বহনকারীদের বিস্তারিত তথ্য পেলে তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব হবে।’

গত ৫ মে ভারতের অ্যান্টি-টেরোরিজম স্কোয়াড (এটিএস) পশ্চিমের রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুম্বাই থেকে ৭ দশমিক ১ কেজি ইউরেনিয়ামসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করে। এ ইউরেনিয়ামের মূল্য আনুমানিক ৩০ লাখ ডলার।

india 2 1

পরে এটিএস জিগার জয়েশ পান্ডিয়া (২৭) ও আবু তাহির আফজাল চৌধুরীর (৩১) নামে মামলা করে। একই সাথে ইউরেনিয়ামের নমুনা পরীক্ষার জন্য মুম্বাইয়ের ভাভা অটোমিক রিসার্চ সেন্টারে (বিএআরসি) পাঠায়। পরে বিএআরসি নিশ্চিত করে, ইউরেনিয়ামগুলো প্রাকৃতিক।

গোয়েন্দারা জানান, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি অনলাইনে ইউরেনিয়াম বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলে এটিএস ক্রেতা সেজে প্রথমে তাদের থেকে নমুনা নেয়। পরে ফাঁদ পেতে তাদের গ্রেপ্তার করে। এনআইএও তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ইউরেনিয়াম বহনের অভিযোগে মামলা করেছে।

তবে এটিএস ও এনআইএ এ বিষয়ে আরব নিউজকে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের মানখুরাদ এলাকায় তাহিরের বাবার একটি ভাংড়ি প্রতিষ্ঠানের দোকান রয়েছে। দুই বছর আগে তিনি এক ট্রাক শিল্পবর্জ্য কেনেন। তার মধ্যেই এগুলো ছিল।

তবে এবারই প্রথম কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ইউরেনিয়াম জব্দ করল, তা নয়। দিল্লির নিরাপত্তা বিশ্লেষক অজয় সানি জানান, ১৯৯০ এবং ২০০০ সালের শুরুতে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ইউরেনিয়াম জব্দের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরা সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। তারা এগুলো ইউরেনিয়াম জানতে পারার পর অর্থ কামাইয়ের জন্য বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এ বিষয়ে উদ্বেগের কিছু আছে। এ নিয়ে বিতর্কেরও কিছু নেই। প্রশ্ন বরং উঠা উচিত, এমন স্পর্শকাতর জিনিস এসব মানুষের হাতে কীভাবে যাচ্ছে, তা নিয়ে। কখনো এগুলো ভুল মানুষের হাতে গেলে সত্যিই তা খুব বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

অজয় সানি আরও বলেন, ‘আসলে ইউরেনিয়াম সংরক্ষণে নিরাপত্তা পদ্ধতির ব্যর্থতার কারণেই তা সাধারণ মানুষের হাতে যাচ্ছে। এটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যর্থতাও সামনে আনছে। কোনোভাবে এগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে গেলে কিংবা সন্ত্রাসীরা এসব মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারলে সত্যিই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।’