advertisement
আপনি দেখছেন

ঈদের পরদিন আফগানিস্তানে কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। কোনো এলাকায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা না থাকলেও তালেবান ও আফগান বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের স্থানগুলোতে দিনটি যুদ্ধ ছাড়াই পার হয়েছে। দিনটি শান্তির দিনগুলোর মতো শান্তভাবে কেটেছে।

solders in afghanistan

আফগান সরকার ও তালেবান ঈদ উপলক্ষে অন্তত তিনদিনের যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু দোহায় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সংলাপে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সম্ভাবনা জাগেনি। আফগান সরকারি বাহিনীর ২০৩ থান্ডার ক্রপসের কমান্ডার দাদান লং বলছেন, আমরা শত্রুবাহিনীর সব প্লান ধংস করতে প্রস্তুত।

টোলো নিউজের রিপোর্টার হাসিবা আতাকপাল সরেজমিন সরকারি বাহিনীর চেকপোস্টে গিয়ে কথা বলেছেন। তিনি পাকতিয়া প্রদেশের গারদেজ শহরের উপকেন্দ্রের চেক পোস্টে গিয়ে খবর পেলেন, ৫-৬ মাস ধরে পরিবারের কাছে যায়নি এমন অনেক সেনা রয়েছে। আবার অনেকে আছে যাদের বাড়িতে ঈদ করার চেয়ে দেশ রক্ষার কাজে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তেমনই এক সৈন্য জিকরুল্লাহ বলছেন, গত পাঁচ মাস তিনি পরিবারের কাছে যেতে পারেননি। অথচ ১০ বছরের চাকরি জীবনে তিনি ঈদ পরিবারের সঙ্গে করেছেন। এখন প্রতিদিন আমরা যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করছি। জনগণের জান-মাল কিভাবে রক্ষা পেতে পারে, জনগণ যাতে খুশি হয়, তাতে আমাদেরও খুশি। আর সেটাই আমাদের ঈদ। সেনাদের প্রত্যাশা যেসব অঞ্চল তালেবান দখল করেছে, তা শিগগির উদ্ধার করা হবে। আমরা দেশ রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত।

মোহাম্মদ ঘানি নামে আরেক সেনা বলেন, আমরা জনগণকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি দখলীয় অঞ্চলগুলো তালেবানের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করবই।

আফগানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল বিসমিল্লাহ মাহমুদি পাকতিয়া প্রদেশ বুধবার সফর করেছেন। তিনি সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। তিনি বলেন, আফগান বাহিনী শান্তির জন্য লড়ছে, যুদ্ধ চলমান থাকুক আমরা চাই না। আমাদের গত ২৫ বছরে একটি চুক্তিতে পৌঁছা উচিত ছিল। তালেবান দেশের কিছু অংশ দখল করলেও তাতে কোনো ফল আসেনি। লড়াই চলছেই।

পাকতিয়া প্রভিন্সিয়াল কাউন্সিলের সদস্য আবদুল মালিক মুজাহিদ জাজাই বলেন, এখানকার সবাই, বিশেষ করে যাদের মিলিটারি ইউনিফর্ম রয়েছে, তারা যদি তালেবানের ভয়ে কোনো এলাকা ত্যাগ করে তাহলে অবশ্যই তাদের বিচার হতে হবে। ট্রাইবাল লিডার আমানুল্লাহ জাদরান বলেন, আমাদের দাবি পাকতিয়া প্রদেশ রক্ষায় বিমান সহায়তা দেওয়া হোক।