advertisement
আপনি পড়ছেন

পাকিস্তানের সঙ্গে ডুরান্ড লাইন নিয়ে উত্তেজনার জের ধরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। পাকিস্তানে তালেবানের বিশেষ প্রতিনিধি আহমাদ খান শাকিব বলেছেন, ডুরান্ড লাইন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তালেবান সরকারের নেই।

pakistan afganistan borderপাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত, যা ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত

বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, আহমাদ খান শাকিব বলেছেন, ‘তালেবান প্রশাসন বা এই গোষ্ঠীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাকী ডুরান্ড লাইনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে না।’ তিনি এমন সময় এই বক্তব্য দিলেন যখন পাকিস্তান ও তালেবান সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে উত্তেজনা, এমনকি গুলি বিনিময়ও হয়েছে।

কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ডুরান্ড লাইনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজে পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষীদের বাধা দিচ্ছে তালেবান সেনারা এবং তারা কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ফেলছে।

pakistan afganistan flagপাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পতাকা

ডুরান্ড লাইনের ৯০ শতাংশ এলাকায় এভাবে বেড়া দিয়ে ফেলেছে পাকিস্তান। ২০১৭ সাল থেকে তারা এই বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করে। আফগানিস্তানের তৎকালীন আশরাফ ঘানি সরকার বেড়া নির্মাণের বিরোধিতা করলেও কখনও পাকিস্তানকে এ কাজে বাধা দেয়নি। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে ঘানি সরকারের পতন পর্যন্ত বেড়া নির্মাণের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিভক্তকারী রেখাকে বলা হয় ডুরান্ড লাইন। ১৮৯৩ সালে তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আফগানিস্তানের তৎকালীন শাসক আব্দুর রহমান খানের সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করে।

ওই চুক্তিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বর্তমান বিভক্তরেখা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ওই চুক্তির কোনো সময়সীমা ছিল না বলে লাইনটি এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার স্থায়ী সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।

পাকিস্তান এটিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে পরিণত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেও দৃশ্যত আফগানিস্তানের পক্ষে এই উদ্যোগ মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতা করে ক্ষমতা দখল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে পাকিস্তান। ফলে তাদের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে সীমান্ত সমস্যা নিরসনের স্বপ্ন দেখছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু তালেবান সেই স্বপ্ন ভঙ্গের ঘোষণা দিয়ে বললো, তারা এককভাবে সমস্যা সমাধানের অধিকার রাখে না। ফলে, সীমান্তবিরোধ নিয়ে আবারো বিপাকে পড়ল পাকিস্তান!