advertisement
আপনি পড়ছেন

দীর্ঘদিন দখলে রাখার পর অবশেষে আত্মসমর্পণ করতে শুরু করেছে মারিওপলের আজভস্টাল স্টিল প্ল্যান্টে থাকা ইউক্রেনীয় সেনারা। রাশিয়া দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজভস্টাল স্টিল প্লান্টে আটকে থাকা ২৫৬ জন সেনা অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, এদের মধ্যে ৫১ জন গুরুতর আহত। ইউক্রেনও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। খবর এনডিটিভি।

ukrainian army surrenderআত্মসমর্পণ করছে ইউক্রেনের সেনারা

ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানা মালিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, আত্মসমর্পণকারী সেনাদের যুদ্ধবন্দি হিসাবে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত কোনো এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যাওয়া হবে নোভোয়াজভস্কে। বাকিদের রাখা হবে ওলেনিভকা গ্রামে। যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে এই সেনাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে ইউক্রেনের।

ইউক্রেনে হামলার পর কোনো স্থানে রুশ সেনারা বেশিদিন অবস্থান করেননি। তবে মারিওপল হামলার পর সেখানকার আজভস্টাল স্টিল কারখানায় বেসামরিক লোকদের পাশাপাশি বহু সেনাসদস্য আশ্রয় নিলে সেটিকে অবরোধ করে বসে রাশিয়া। তারা ইউক্রেনের সেনাদের আত্মসমর্পণের জন্য বেশ কয়েকবার আল্টিমেটাম দেয়। তাতে তেমন কোনো কাজ হয়নি। তবে সেখানে আটকে থাকা বেসামরিক লোকজনকে উদ্ধার করাই তখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়।

azovstal steelworkআজভস্টাল স্টিল প্ল্যান্ট

গত কয়েকদিন কিছু কিছু করে বেসামরিক লোককে অন্যত্র চলে যাওয়ার সুযোগ দেয় রাশিয়া। এ অবস্থায় সেখানকার বেসমেন্টে থাকা ৬০০ সেনাসদস্যের মধ্যে ২৫৬ জন আত্মসমর্পণ করে। বাকিদের একইভাবে উদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দী যোদ্ধাদের পরিণতি কী হবে তা নিয়ে সন্দিহান কিয়েভ। কারণ রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের এক সদস্য বলেছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দিদের বাঁচিয়ে রাখার দরকার নেই। আমাদের বন্দীদের সাথে ওরা যে নিষ্ঠুর আচরণ করেছে, তাতে তাদের আর বেঁচে থাকার অধিকার নেই।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আজভস্টালে থাকা সৈন্যদের যুদ্ধাপরাধী বা যুদ্ধবন্দী হিসাবে গণ্য করা হবে কি না, সে সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেননি। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের সঙ্গে আচরণ করা হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন।