advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউক্রেনের মারিওপোলের আজভস্টাল কারখানায় আটকাপড়া আজভ ব্যাটালিয়ন সদস্যদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে রাশিয়া। ২০১৪ সালের পর থেকে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যাটালিয়ন সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়া-সমর্থিত দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের (ডিপিআর) প্রধান ডেনিস পুশিলিন।

azovstal surrendered wounded tlsdআজভস্টালের ভূগর্ভে আটকাপড়াদের মধ্যে ৮০৪ জন ইউক্রেনের আজভ ব্যাটালিয়নের সদস্য

ডিপিআর প্রধান বলেন, আজভ মিলিশিয়াদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। ট্রাইব্যুনাল তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। ডনবাস অঞ্চলে মিলিশিয়ারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। সেখানেই তাদের বিচার করতে হবে। ডিপিআর যেহেতু ইউরোপিয়ান কনভেনশন ফর দ্য প্রটেকশন অব হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ফান্ডামেন্টাল ফ্রিডমস স্বাক্ষর করেনি, তাই এখানে বিচার হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে।

আজভ ব্যাটালিয়নকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা এবং রাশিয়ায় এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে রুশ সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির আইন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আগামী ২৬ মে রাশিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে রাশিয়ার একাধিক প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা ও রাজনীতিক আজভ মিলিশিয়াদের সম্ভাব্য যুদ্ধবন্দী বিনিময় কর্মসূচির বাইরে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তারা বলেন, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের যেসব সদস্য আজভস্টালে আত্মসমর্পণ করেছে, তাদেরকে বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে কিয়েভ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে। তবে আজভ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের বন্দি বিনিময়ের আওতায় নেওয়া যাবে না।

রুশ পার্লামেন্টের স্পিকার ভাচেস্লাভ ভলোদিন বলেছেন, আজভ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তরের পথ বন্ধ করতে আইন প্রণয়ন করা হবে। এ বিষয়ে দুমায় প্রস্তাব আনা হবে। রুশ সিনেটর আন্দ্রেই ক্লিশাসও আজভদের বিষয়ে একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আজভ যোদ্ধাদের সম্ভাব্য বন্দি বিনিময় কর্মসূচিতে নেওয়ার বিরোধিতা করে চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ বলেছেন, সামরিক বাহিনী সদস্যদের বিনিময় করা যায় কিন্তু নাৎসি মনোভাবে দীক্ষিত ব্যান্ডেরা অনুসারীদের অবশ্যই আইন অনুযায়ী বিচার করতে হবে।

প্রসঙ্গত, আজভস্টাল কারখানার ভূগর্ভে আটকাপড়াদের মধ্যে ৮০৪ জন ইউক্রেনের আজভ ব্যাটালিয়নের সদস্য। অন্যরা সেদেশের সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য। আটকাপড়া সৈন্যরা গত সোমবার থেকে রুশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করছেন।

এ পর্যন্ত আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর ৫৩তম, ৫৪তম, ৫৬তম ব্রিগেড, ৩৬তম মেরিন ব্রিগেডের সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ৫০১তম ও ৫০৩তম ব্রিগেডের প্রথম ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও আজভস্টালে ছিলেন। এর বাইরে ইউক্রেন ন্যাশনাল গার্ডের ১২ ব্রিগেডের সদস্যরাও রয়েছেন।