advertisement
আপনি পড়ছেন

অভিযানের অংশ হিসেবে ইউক্রেনের নৌপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে রাশিয়া। ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে নৌ যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নৌ-অবরোধ ঠেকাতে ইউক্রেনকে জাহাজ ডুবিয়ে দিতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার জন্য কাজ করছে হোয়াইট হাউস। খবর রয়টার্স।

harpoon surface to surface missileযুক্তরাষ্ট্রের হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র, ফাইল ছবি

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজকে ডুবিয়ে দিতে পারে, ইউক্রেন এমন শক্তিশালী অস্ত্রের অধিকারী হলে নিশ্চিতভাবেই সংঘর্ষ আরো তীব্র হবে।

যুদ্ধে আর্টিলারি, জ্যাভলিন এবং স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্রে কিয়েভের যে সক্ষমতা রয়েছে তা বৃদ্ধি করতে উন্নত মার্কিন সক্ষমতা চাওয়ার বিষয়টি ইউক্রেন কখনোই গোপন রাখেনি। ইউক্রেন এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন ক্ষেপণাস্ত্র চাইছে, যা তাদের নৌপথ অবরুদ্ধ করে রাখা রাশিয়ান নৌবাহিনীকে কৃষ্ণ সাগর বন্দর থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারে। এতে সক্ষম হলে ইউক্রেন বিশ্বব্যাপী শস্য এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের চালান পুনরায় চালু করতে পারবে।

russian shipকৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার জাহাজ, ফাইল ছবি

তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা ও মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইউক্রেনে দীর্ঘ পাল্লার, আরো শক্তিশালী অস্ত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- এসব অস্ত্র পরিচালনায় দীর্ঘ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের অসুবিধা ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়টি হলো, অভিযান চলাকালে এসব মার্কিন অস্ত্র রুশ বাহিনীর দখলে চলে যেতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থাতেও তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই ধরনের শক্তিশালী জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, বোয়িংয়ের তৈরি হারপুন এবং কংসবার্গ ও রেথিয়ন টেকনোলজিসের তৈরি নৌ স্ট্রাইক মিসাইল ইউক্রেনে সরাসরি পাঠানো বা ইউরোপের কোনো মিত্র রাষ্ট্র থেকে পাঠানোর বিষয়টি তাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

গত এপ্রিলে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি পর্তুগালের কাছে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে হারপুন সরবরাহের আবেদন করেছিলেন, যার পরিসর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ইউক্রেনের জন্য এ অস্ত্র প্রয়োগে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- উপকূল থেকে হারপুন উৎক্ষেপণের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মের ঘাটতি। তবে অনেক কর্মকর্তার মতে, এটি তেমন সমস্যা নয়, কারণ এসব ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকাংশই সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র।

দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে দুই ক্ষেপণাস্ত্রের কথা আলোচনায় উঠে এসেছে সেগুলোর প্রতি রাউন্ডের দাম ১৫ লাখ ডলার।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়া সাবমেরিনসহ প্রায় ২০টি জাহাজ দিয়ে অবরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের একজন নৌ বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বলেছেন, হারপুনের মতো ১০০ কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জের ১২ থেকে ২৪টি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল রুশ বাহিনীকে হুমকি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এগুলোই মস্কোকে অবরোধ তুলে নিতে রাজি করাতে পারে। কারণ কৃষ্ণ সাগরে তাদের লুকানোর জায়গা নেই।