advertisement
আপনি দেখছেন

কতদিন হয়ে গেলো মেয়ের মুখ থেকে ‘মা’ ডাক শুনতে পান না। খাওয়াদাওয়া বাদ দিয়ে সারাদিন অসুস্থ মেয়ের বিছানার পাশে পড়ে থাকেন তিনি। এই বুঝি ‘মা’ বলে ডেকে ওঠবে তার আদরের কন্যাটি। কিন্তু সে ডাক আর শোনা হয় না। গত ছয় মাস ধরে এভাবেই ‘মা’ ডাক শোনার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছেন হাজেরা বেগম।

munni wrong treatmentভুল চিকিৎসায় ছয় মাসেও জ্ঞান ফেরেনি মুন্নির

চিকিৎসক ও নার্সদের ভুল চিকিৎসায় গত ছয় মাস ধরে অজ্ঞান হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন হাজেরা বেগমের আদরের কন্যা মরিয়ম সুলতানা মুন্নি। বিভিন্ন স্থানে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করালেও জ্ঞান ফেরেনি তার। ভুল চিকিৎসার কারণে এখন বেঁচে থাকা নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয়।

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুন্নি। চোখে আকাশছোয়া স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ আজ গোপালগঞ্জ শহরের ভাড়া বাসায় জীবন্ত লাশ হয়ে পড়ে আছেন। নাড়াচাড়ার শক্তি নেই, খাওয়ার শক্তি নেই। স্যালাইনের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে তরল খাবার। শরীর হয়ে পড়েছে কঙ্কালসার।

মুন্নির বাবা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মো. মোশারফ হোসেন বিশ্বাস বলেন, মেয়ের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। খুলনার আবু নাসের হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল ও শমরিতা হাসপাতালে তিন মাস ধরে চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু মেয়ের কোনো উন্নতি হয়নি। তাই স্থানীয় এক ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এখন বাসাতেই মুন্নির চিকিৎসা চলছে।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘মেয়েটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন সব স্বপ্নই শেষ হয়ে গেছে। আমার মেয়েটা যে কবে ভালো হবে।’

এ ঘটনায় মুন্নির চাচা জাকির হোসেন বিশ্বাস বাদী হয়ে অভিযুক্ত ডা. তপন কুমার মণ্ডল, নার্স শাহানাজ পরভীন ও কুহেলিকার নামে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু চার্জশিট থেকে মামলার প্রধান আসামি ডা. তপন কুমার মণ্ডলের নাম বাদ দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে দুই নাসর্কে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে তারা। আসামিরা সবাই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

মামলায় প্রধান আসামির নাম বাদ দেয়ায় মুন্নির বাবা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ কারো সঙ্গে কথা না বলে তদন্ত ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানায়, চাপ থাকায় তাড়াতাড়ি চার্জশিট করে দিয়েছেন।

এসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান মুন্নির বাবা মো. মোশারফ হোসেন বিশ্বাস।

প্রসঙ্গত, ২০ মে পিত্তথলির পাথর অপসারণ করার জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মুন্নিকে। পরদিন ২১ মে সকাল ১০টায় অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন ভোর ৫টায় কর্তব্যরত নার্স ভুল ইনজেকশন দেয়ায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মুন্নি। এরপর থেকে এখনো জ্ঞান ফেরেনি।