advertisement
আপনি পড়ছেন

হিন্দু ধর্মের দেবতার ছবি ছুঁইয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী ওই ব্যক্তি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, নাসিক, নির্বাচন উপলক্ষে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

narayangonj election festivalনারায়ণগঞ্জে চলছে ভোট উৎসব

জানা যায়, সম্প্রতি নাসিকের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাকসুদ হোসেন রকির পক্ষে ঠেলাগাড়ি মার্কায় ভোট চান সুতা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা। এ সময় তিনি তার গলায় থাকা দেবতার ছবি ভোটারের কপালে ছুঁইয়ে ভোটাদের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন।

ওই ঘটনার ৩২ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ গতকাল বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, দিবাগত রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তথা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

narayangonj voter promise deity photo toutchনাসিকে দেবতার ছবি ছুঁইয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি

এ বিষয়ে নিখিল দাস নামে এক ব্যক্তি একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যে জায়গাটি দেখা গেছে, সেটি হলো ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাল এলাকা। ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগদ টাকা দিয়ে ঠেলাগাড়ি ও বই মার্কার পক্ষে ভোট কেনেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র গ্রন্থ গীতা ছুঁইয়ে লিটন সাহা ভোট নিশ্চিত করেছেন জানিয়ে বাসদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস অভিযোগ করেন, ভোট কেনার পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন লিটন সাহা। তিনি এর বিচার ও লিটন সাহাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা দাবি জানান।

লিটন সাহা দেবতার ছবি ছুঁইয়ে ভোট চাওয়া সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্য যে, আমি দেবতার ছবি ছুঁয়ে ভোট চেয়েছি। কিন্তু, আমি নির্বাচনে কোনো প্রভাব বিস্তার করিনি। এমনকি আচরণ-বিধিও লঙ্ঘন করিনি।

এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, তিনি যাদের কাছে ভোট চেয়েছেন তারা সবাই তার পরিচিত লোক। টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায় না, এগুলো সব মিথ্যা কথা। তাছাড়া কাউকে তিনি হুমকি-ধমকিও দেননি বলে জানান।

এ বিষয়ে ওই এলাকার (১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ড) দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান সংবাদ মাধ্যমটিকে বলেন, কেউ যদি এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।