advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 27 মিনিট আগে

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের নারীসমাজ। তারা শুধু এখন ঘরই নয়, অফিস আদালতও সামলাচ্ছেন। এতো কিছু ঘারে নিয়ে রূপচর্চার সময় কোথায়? কিন্তু ঘরে বাইরে নানান কাজে ব্যস্ততায় গায়ের বং যে খানিকটা তামাটে হয়ে যায়, সেদিকেও তো লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। আর তাই সহজ সমাধান হিসেবে তারা ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন।

mercury cream

আবার কাজের চাপে বাজার যাচাই করারও সময়ের ফুসরত পান না তারা। আর এ সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে নানান অনলাইন প্রতিষ্ঠান। ফেসবুকে পোস্ট বুস্ট করে দেশি বিদেশি নামে চালিয়ে নানান মিষ্টি কথায় বিক্রি করছে নিন্মমানের ক্রিম। ব্যাপক চাহিদার যোগান দিতে পিছিয়ে নেই শহরের মার্কেটগুলো থেকে শুরু করে, পাড়ার দোকান, এমনকি ফুটপাথের হকাররাও।

তবে এমন প্রশ্ন ঊঠতেই পারে- এসব ক্রিম কি আসলেই কোনো কাজে দিচ্ছে? ত্বক কি আদৌ ফর্সা হচ্ছে? নাকি আজেবাজে জিনিস ব্যবহার করে নিজের ত্বকের বারোটা বাজাচ্ছেন? এ তাগিদেই সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য।

ত্বক ফর্সাকারী বেশিরভাগই ‘হাইড্রোকুইনোন’ ক্রিম, যা ত্বকের কালো দাগ দূর করার উপাদান। তবে অধিকাংশ ক্রিমেই রয়েছে অতিমাত্রায় পারদের ব্যবহার। যা শুধু মানব ত্বক নয় পরিবেশের জন্যেও ভয়ানক ক্ষতির কারণ।

পারদ দূষণ রোধকারীর কাজে নিয়োজিত এনজিও জোটের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে বৃহস্পতিবার লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বাজারে এবং অনলাইনে ব্যাপকভাবে পারদযুক্ত এসব ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রি হচ্ছে।

এসব ক্রিমে পারদের নির্ধারিত সীমা ১ পিপিএম। কিন্তু ১০টির ও বেশি ১৫৮টি পণ্য যাচাই করে দেখা যায় ৯৫টি ক্রিমে পারদের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার অনেকটাই উপরে। বেশকিছু ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ১ লক্ষ পিপিএমও ছাড়িয়েছে।

fair skin

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ ৯৫ টির মধ্যে ৬৫ টি পণ্যই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে যার বিপণন করছে দারাজ, ই-বে, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট এবং জুপিয়ার মতো সুপরিচিত সাইটগুলো।

আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও পারদযুক্ত নানান পণ্য অবস্থান করে নিচ্ছে গ্রাহকদের ঘরেঘরে। এ পণ্যগুলো বিক্রি বন্ধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অনেকদিন ধরে কাজ করে গেলেও সুরাহা মিলছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে,পারদ বা মারকিউরি মানবদেহে রক্তের সাথে প্রবেশ করে রক্তকোষ বিনষ্ট করে।

এসব পণ্য পরিবেশে ফেলা হলে খুব সহজে তা পানির উৎসে মিশে যায়। এভাবে ড্রেন, নদী, এমনকি সাগরের পানিকেও দূষিত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সচিব এসডোর চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ পারদযুক্ত পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

sheikh mujib 2020