advertisement
আপনি পড়ছেন

গণহত্যার বিষয়ে চুপ থাকা এক অপরাধ আর হত্যাকারীদের দায়মুক্ত করে দেওয়া আরেক অপরাধ। আগামী মাসে চীনে শুরু হতে যাচ্ছে শীতকালীন অলিম্পিক। সেখানে যারা অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন, তারা কার্যত দুই ধরনের অপরাধই করছেন।

josh rogin post writerজশ রগিন

প্রথমত, উইঘুর মুসলিমদের ওপর চালানো গণহত্যার বিষয়ে তারা চুপ ছিলেন, একটি শব্দও করেননি। দ্বিতীয়ত, যারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, তাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় চীনকে যতটুকু কোণঠাসা করা গেছে, বেইজিং অলিম্পিকে যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের মধ্য দিয়ে সেই প্রতিবাদের ফলাফল অন্তঃসারশূন্য হয়ে যাবে।

যারাই উইঘুরদের ওপর চালানো গণহত্যার অভিযোগে চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অলিম্পিক আসর বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন, বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। আইওসির দাবি- অলিম্পিক অরাজনৈতিক, এর সঙ্গে রাজনীতিকে মেলানো যাবে না।

কিন্তু ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। ১৯৩৬ সালে জার্মানির 'বার্লিন অলিম্পিক' আসরে আফ্রিকান-আমেরিকান রানার জেসি ওয়েনস জার্মানির অভ্যন্তরে সংখ্যালঘুদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। এককভাবে হিটলারের জাত্যাভিমানের কঠিন-কঠোর দেওয়ালে আঘাত করায় আজও তিনি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আইওসি সেই ইতিহাস ভুলে চীনের পক্ষে সাফাই গাইছে।

তবে বিশ্বে বিবেকবান মানুষও রয়েছেন। হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এলি উইজেলের ছেলে এলিশা উইজেল বলেছেন, বেইজিং অলিম্পিক চীনের গণহত্যা ঢাকার অস্ত্র। বিবেকবানদের উচিত এটি এড়িয়ে যাওয়া। শুধু তাই নয়, তিনি আরও জনিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের 'গণহত্যা স্মরণ' অনুষ্ঠানেও বিশ্ববাসীকে তিনি এই আহ্বান জানাবেন।

লেখক: জশ রগিন, সাংবাদিক

প্রিয় পাঠক, ভিন্নমতে প্রকাশিত লেখার বিষয়বস্তু, রচনারীতি ও ভাবনার দায় একান্ত লেখকের। এ বিষয়ে টোয়েন্টিফোর লাইভ নিউজপেপার কোনোভাবে দায়বদ্ধ নয়। আপনাদের ধন্যবাদ।