আপনি পড়ছেন

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কিয়েভের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ মলদোভাও ব্ল্যাকআউটের  কবলে পড়েছে। মলদোভার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অবকাঠামো মন্ত্রী আন্দ্রেই স্পিনু গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন। টুইটারে তিনি লেখেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে বুধবারের রুশ হামলার পর আমাদের দেশও ব্যাপক ব্ল্যাকআউটের শিকার হয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।

blackouts in moldovaমলদোভাতে ব্ল্যাকআউট

এর আগে গত ১৫ নভেম্বরও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সে সময়ও ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা চালালে তাদের সঙ্গে মলদোভাও ব্ল্যাকআউটের শিকার হয়। এতে তার দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউরোপের দরিদ্রতম দেশগুলোর অন্যতম মলদোভা ইউক্রেনের প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র। দেশটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় মাঝে মধ্যেই তাদেরকে ইউক্রেনের পরিণতি মেনে নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় মলদোভার কেন্দ্র ও দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা প্রিমিয়ার এনার্জি ও দেশটির পুলিশ বিভাগ জনগণকে শান্ত থাকতে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালায় রাশিয়া। এতে কমপক্ষে ছয়জন লোক নিহত হয়। তিনটি পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ করে দিতে হয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। এর জেরে পুরো ইউক্রেনে  ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইউক্রেনের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবেশী মলদোভারও অর্ধেকের মতো জায়গাতে ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটে।

attacked by russiaরুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এ পর্যন্ত বিভিন্ন জ্বালানি কেন্দ্রে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। দেশের অর্ধেকেরও বেশি পাওয়ার গ্রিড মেরামতের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ক্রমেই তাপমাত্রা কমে শূন্যের নিচে চলে আসছে। এমন সময় রাশিয়ার এ ধরনের হামলার কারণে লাখ লাখ মানুষ জ্বালানিবিহীন, বিদ্যুৎবিহীন, পানিবিহীন অবস্থায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এটিকে সন্ত্রাসের রাশিয়ান ফর্মুলা বলে আখ্যায়িত করেন।

গতকাল বুধবার ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। পরে রাজধানী কিয়েভ ও পশ্চিমী শহর লাভিভসহ বেশ কিছু স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনি দাবি করেছেন, মস্কো ৬৭টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা সিস্টেম হামলার ৫১টিতে সফলভাবে বাধা দিয়েছে। তারপরও এ হামলায় দেশজুড়ে অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক হামলার কারণে তারা বেশিরভাগ তাপ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর