আপনি পড়ছেন

টাঙ্গাইলে একই অনুষ্ঠানে সরকার দলীয় মন্ত্রী ও কাদের সিদ্দিকীর উপস্থিতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে ঐক্য করতে যাচ্ছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

quader siddiquiটাঙ্গাইলে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কাদের সিদ্দিকী

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় বঙ্গবন্ধুর কাছে কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র জমা দেওয়ার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস এবং কাদের সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মোজাম্মেল হক। তবে এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা যোগ দেননি। একজন মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কালিহাতীর পটল গ্রামের মোস্তাক হোসেন বলেন, মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে তাদের জোট হচ্ছে।

এর আগে ২৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে সপরিবার সাক্ষাৎ করেন কাদের সিদ্দিকী। তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যাচ্ছেন তিনি। সেই সাক্ষাতের পর এটি ছিল টাঙ্গাইলে প্রথম কোনো সভা।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস অংশ নেয়। এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সদস্য কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সভায় কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পথ চলতে চাই। বাংলার বাপ একটাই। তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আমি এতিম হয়েছি। এতে আমার, আমার ভাই ও পরিবারের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে।’

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে যে অস্ত্র জমা দিয়েছিলাম, তা নতুন প্রজন্ম জানেই না। সেই স্মৃতি ধরে রাখতে স্মৃতিস্তম্ভ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের প্রতি দাবি জানিয়েছিলাম।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই তিনি এসেছেন। তিনি কাদের সিদ্দিকীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরাও আপনাকে নিয়ে পথ চলতে চাই। ২০২৪ সালে যে নির্বাচন হবে, ওই নির্বাচনে এক বৃত্তে থাকবেন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীরা।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকী ইতিহাসের গর্বিত সন্তান। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বগাথা ইতিহাসে বিরল। যুদ্ধ শেষে বিজয়ী হয়ে তিনি এক লাখ চার হাজার অস্ত্র বঙ্গবন্ধুর কাছে জমা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে কাদেরিয়া বাহিনীর।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যে মনোভাব প্রকাশ, তা আমার জন্য বিব্রতকর। এই অনুষ্ঠানকে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখতে চাই আমরা। সম্পর্কের কোনো অবনতি থাকলে তা জাতীয়ভাবে নিতে চাই না। আমরা মনে করি, এটি একটি ঐতিহাসিক দিন।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, এটা জেলার বিষয় নয়, কেন্দ্রের বিষয়। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাঁরা তা মেনে নেবেন।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর