কোথায় ও কেন নির্মাণ করা হবে পদ্মা ব্যারেজ
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি ব্যারেজ নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এই মেগা প্রকল্প আগামী সাত বছরে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

পদ্মা ব্যারেজ নামের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রাথমিক লক্ষ্য দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৃতপ্রায় পাঁচটি নদী পুনর্জীবিত করা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীগুলোর আশপাশের ২৪টি জেলার পানিসংকট নিরসন হবে। এর ফলে প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে ওই অঞ্চলে ব্যাপক খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়। পদ্মা নদীর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য নদী শুকিয়ে যায়। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় লবণাক্ততা দেখা দেয় বর্ষা মৌসুমে কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতাও তৈরি হয় বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, সবদিক বিবেচনায় এই প্রকল্পকে আমরা বলছি ‘মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প’, যেটা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে গিয়ে জনসাধারণের সামনে সেটা বক্তব্য রেখেছিলেন, কমিটমেন্ট (অঙ্গীকার) করেছিলেন। সেটা বাস্তবায়নের জন্য এই প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে।
আগামী অর্থবছরেই প্রকল্পটির প্রথম ধাপের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে ব্যারেজ নির্মাণ শেষে ওই অঞ্চলে তিনটি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সাতটি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি।
ব্যারেজ হলো পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নদী বা জলাধারের ওপর আড়াআড়িভাবে নির্মিত বিশেষ অবকাঠামো। ড্যাম বা বাঁধের সঙ্গে এর বড় পার্থক্যের জায়গা হলো, বাঁধের মাধ্যমে সাধারণত জলাধারের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গাজুড়ে পানি ধরে রাখা হয়। ব্যারেজের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বন্ধ করার পরিবর্তে সেটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এক্ষেত্রে মূল অবকাঠামোতে একাধিক দরজা রাখা হয়। এই দরজা দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।
সাধারণত ব্যারেজ নির্মাণের আগে সেটার উজানে খনন করা হয় এক বা একাধিক কৃত্রিম খাল। পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে ওইসব খালে পানি ঢোকানো হয়। সেই পানি পাম্পের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচ আকারে দেওয়া হয়। অনেক সময় ব্যারাজের মাধ্যমে এক নদীর পানি অন্য নদীতে নিয়ে সেটির প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে সেটিই করার পরিকল্পনা করছেন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যেখানে ব্যারেজ প্রয়োজন, সেখানে যদি এটি নির্মাণ করা যায় এবং ঠিকঠাকমত কাজে লাগানো যায়, তাহলে অনেক ধরনের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। আবার এর ব্যত্যয় ঘটলে হিতে বিপরীতও হতে পারে। তখন দেখা যাবে ব্যারেজ কোনো কাজে লাগছে না, বরং শুধু শুধু অর্থের অপচর হয়েছে এবং নদীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাজেই ব্যারেজ নির্মাণের আগে ভালোমত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নির্মাণের পর সেটির ঠিকঠাক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের আওতায় মূল অবকাঠামোটি নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। প্রায় দুই দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ ওই ব্যারেজে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং দু'টি ফিশ পাস রাখা হবে। এর মধ্যে ব্যারাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত যে কাঠামোর মাধ্যমে নদীর অতিরিক্ত পানি বাইরে বের করে দেওয়া হয়, সেটাই হলো স্পিলওয়ে। আর আন্ডার স্লুইস হলো ব্যারেজের পানির প্রবাহ ও পলি ব্যবস্থাপনার জন্য নির্মিত আরেকটি বিশেষ কাঠামো।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে। সংরক্ষিত ওই পানি বণ্টনের জন্য তিনটি 'অফটেক অবকাঠামো' নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যে নদীর ওপর ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়, সেটির পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও বণ্টনের জন্য যে বিশেষ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়ে থাকে, সেটি 'অফটেক অবকাঠামো' নামে পরিচিত।
প্রথম ধাপের কর্মকাণ্ডের আওতায় গড়াই-মধুমতী নদীতে ১৩৫ দশমিক ছয় কিলোমিটার এবং হিসনা নদীতে ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন এবং ড্রেজিং কাজ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গড়াই-মধুমতি, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
এক্ষেত্রে ব্যারাজের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ওইসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তাদের আশা। এরপর সেই পানি দিয়ে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া হবে বলে প্রকল্পের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেটি সম্ভব হলে দেশে আরো প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং সোয়া দুই লাখ টন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.