দিল্লিতে কী হয়েছিল? প্রথমবার বিস্তারিত বললেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করানোর পর ভারতের অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার দাবি, তিনি ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়, রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা প্রত্যাশিত ছিল না।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টি এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে গেছে। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে চান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটা এখন দুই দেশের বিষয়। কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দেখতে দেওয়া উচিত।’
ঘটনার পেছনে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট না থাকার বিষয়টি কারণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টারও জবাব দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, তার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার ছিল, যা কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের মতোই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কথা। এছাড়া কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেইনি, কিন্তু সেটা কোনো কারণ হতে পারে না। আমার বিদেশ ভ্রমণ কি তাহলে বন্ধ হয়ে যাবে? এটি একটি বিশেষ সুবিধা, বাধ্যবাধকতা নয়। পাসপোর্টের বিষয়টি মূল কারণ ছিল না, অন্য কোনো কারণ ছিল।’
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (আইওআরএ) বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে দিল্লি যান তিনি। তার সঙ্গে থাকা অন্য প্রতিনিধিরা স্বাভাবিকভাবে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে চলে গেলেও তার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা শুরু হয়।
তার ভাষ্য, ‘আমার ইমিগ্রেশন শুরু হওয়ার পরই বুঝতে পারছিলাম তারা সময় নিচ্ছে। বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছে। বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয়নি।’
তিনি বলেন, পুরো সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনার তার পাশে ছিলেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন ভারতে প্রবেশ করবেন না।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘দুই ঘণ্টা পার হওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, এটা অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমি একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছি। সেই পদের প্রতি যে ন্যূনতম সৌজন্য থাকা উচিত, সেটার ঘাটতি আমি অনুভব করেছি। তখনই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’
তিনি বলেন, পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই অনুরোধ গ্রহণ করেননি।
‘আমি মনে করেছি, যা ঘটেছে তার একটি প্রতিবাদ নথিভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। এটা কোনো শত্রুতার বিষয় নয়; বরং একটি বার্তা যে আমার সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হয়নি,’ বলেন তিনি।
ভারত থেকে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তিনি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেননি বলে জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি চাইনি আমার পাসপোর্টে এমন কোনো সিল থাকুক, যা প্রমাণ করবে আমি ভারতে প্রবেশ করেছি। আমি চেয়েছি এটা পরিষ্কার থাকুক যে আমি ভারতীয় ইমিগ্রেশন অতিক্রম করিনি। এ কারণে ফেরার প্রক্রিয়াটাও কিছুটা জটিল হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার পুরো ব্যবস্থাপনায় দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ঘটনার সময় দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের ভূমিকার প্রশংসা করে ডা. জাহেদ বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব সমালোচনা হয়েছে, তা সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘বিমান থেকে নামার পর থেকে আমি কলম্বোর বিমানে ওঠা পর্যন্ত পুরো সময় হাইকমিশনার আমার পাশে ছিলেন। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেছেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তার আন্তরিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
একইসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় যাত্রাবিরতির সময়ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু তথ্যও খণ্ডন করেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি জানান, তাকে কোনো কক্ষে আটকে রাখা হয়নি কিংবা দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। তবে তাকে যে স্থানে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, সেটিকে তিনি রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধির জন্য উপযুক্ত মনে করেননি।
ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমাকে কোনো রুমে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল—এটা ভুল তথ্য। খুব বেশি জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। কিন্তু যেভাবে আমাকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, সেটা আমার কাছে উপযুক্ত মনে হয়নি।’
এদিকে দিল্লি বিমানবন্দরে এই ঘটনার জেরে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.