২৫০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র টিকে থাকবে কি না, সন্দিহান ৩৮% মার্কিন
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আগামী ৪ জুলাই স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের প্রাক্কালে দেশটির নাগরিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিকদের ৩৮ শতাংশ মনে করেন, আগামী ২৫০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান রূপে একক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে নাও থাকতে পারে। অন্যদিকে ৬২ শতাংশ বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতেও দেশটি অখণ্ড ও ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবেই থাকবে।
চার দিনব্যাপী পরিচালিত অনলাইন জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের ১ হাজার ৫৩৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। ফলাফলের সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ।
জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি। ডেমোক্র্যাটদের ৪০ শতাংশ মনে করেন দেশটি আগামী ২৫০ বছর টিকে নাও থাকতে পারে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এ হার ২৬ শতাংশ।
এমন সময়ে জরিপের ফল প্রকাশিত হলো, যখন স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজনগুলো ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা মনে করেন, মার্কিন গণতন্ত্র বর্তমানে ব্যর্থতার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫০ শতাংশ এ উদ্বেগের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
গত বছরের আগস্টে পরিচালিত একই ধরনের জরিপে যেখানে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, এবার সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অংশগ্রহণকারীদের ৭৭ শতাংশ মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্বাচনী বিতর্ক এবং দলীয় বিভাজন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জরিপে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে দেখার প্রবণতা আগের তুলনায় কমে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
এবার মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০১৭ সালে পরিচালিত একই ধরনের জরিপে এ হার ছিল ৩৮ শতাংশ।
ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সেরা দেশ মনে করেন মাত্র ১১ শতাংশ, যেখানে ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৬ শতাংশ।
স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলো নিয়েও রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং রিপাবলিকানদের প্রায় অর্ধেক মনে করেন, স্বাধীনতা উদযাপনের অনুষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে।
উদযাপনের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ৫২ শতাংশ রিপাবলিকান জাতীয় পতাকার রঙের পোশাক পরার পরিকল্পনা করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২০ শতাংশ।
এ ছাড়া আতশবাজির অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহও রিপাবলিকানদের মধ্যে বেশি। রিপাবলিকানদের ৪৬ শতাংশ এমন অনুষ্ঠানে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে এ হার ২৮ শতাংশ।
স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে পরিচালিত এই জরিপ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, জাতীয় উৎসবের মতো বিষয়েও দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন কতটা গভীর হয়ে উঠেছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.