কী হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরে
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় প্রথম বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের। এরপর তিনি সেখান থেকে চীনে যাবেন। দুই দেশে সফর নিয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারত ও চীনকে এড়িয়ে তৃতীয় এক দেশকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।

তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে এখন পর্যন্ত যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে অনুযায়ী, তিনি ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ জুন কুয়ালালামপুর থেকেই বেইজিং যাবেন এবং ২৬ জুন ঢাকায় ফিরবেন।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বেইজিং গিয়ে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।
প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে তারেক রহমান মালয়েশিয়াকে কেন বেছে নিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-চীন বিতর্ক এড়ানো, কিংবা সম্পর্কে ভারসাম্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা এবং ভারতকে নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে কৌশলগত কারণেই প্রথম সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তার সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের গতি আরও বাড়বে। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে জটিলতার অবসান ও বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের দিক থেকে শ্রমবাজার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষাখাতেও দেশটির সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে।
বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির তালিকায় চতুর্থ দেশ মালয়েশিয়া। তারপরও দেশটির শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ আছে।
ঢাকায় কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়া যেসব বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধ কাগজপত্র নেই, তাদের বৈধতা দেওয়া এবং শ্রমবাজার উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানিতে সব বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী যেন দেশটিতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য যেতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে দুই দেশের সরকারেরই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে মালয়েশিয়ার চেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বেইজিং সফর করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই সফরে প্রায় ১৫টির মতো সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে এসব সমঝোতা স্মারক হবে।
সফরে যেসব বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, যমুনায় আরেকটি সেতু, বাংলাদেশে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল। সম্প্রতি একনেকে চীনের ঋণে ৪ হাজার কোটি টাকার একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের সফরের সময়েই বেইজিংয়ে একটি বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি চীনা মুদ্রায় বন্ড চালুর প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এ সফরে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তরেও চীনকে প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), মুদ্রা বিনিময় চুক্তি এবং বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংক স্থাপনের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে থাকা বিনিয়োগ চুক্তিগুলোর আপগ্রেডেশনের প্রস্তাব আলোচনায় আসতে পারে বলে কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশ দুটির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে মনে করেন চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ। তিনি বলেন, চীন সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী কোথায় গেলেন, তা নিয়ে চীন চিন্তা করে না। ফলে মালয়েশিয়া আগে যাওয়াতে কোনো ক্ষতি নেই। বরং দুই দেশেই সহযোগিতা বৃদ্ধির অনেক ক্ষেত্র আছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পাবে।
মুন্সি ফয়েজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাণিজ্য ও অর্থনীতিসহ অনেক বিষয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্কের জন্য দুই পক্ষকেই উদ্যোগী হতে হবে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.