আপনি পড়ছেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। মেয়র পদে ডাকসুর ভিপি ও সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, এর আগেই একই পদে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জামায়াতের পছন্দ সাদিক কায়েম, চাপে আসিফ মাহমুদ?
সাদিক কায়েম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

জামায়াত ও এনসিপি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই জোটে থাকলেও ঢাকা দক্ষিণে দুই দলের সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর নাম সামনে আসায় ভবিষ্যৎ সমঝোতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি সম্প্রতি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্বও ছেড়েছেন।

অন্যদিকে, এনসিপি কয়েক মাস আগেই ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত এনসিপির একটি অংশে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এনসিপির একাধিক নেতার দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও ঢাকা-১০ আসনে আসিফ মাহমুদকে সমর্থন দিতে জামায়াতের আপত্তি ছিল। তখন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।

এনসিপির একটি অংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সেই মতপার্থক্যেরই ধারাবাহিকতা হতে পারে। তবে দুই দলের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধের কথা স্বীকার করেনি।

এনসিপির নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত জোট বা আসন সমঝোতা হয়নি। তফসিল ঘোষণার আগে কিংবা পরে রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে।

দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, যদি জাতীয়ভাবে মনে হয় যে সমঝোতা হলে সরকারি দলের বাইরে অন্য প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে, তাহলে শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। তবে আপাতত সব দলই নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করতেই মনোযোগ দিচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি সম্ভাবনাও আলোচিত হচ্ছে। এনসিপি সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে যদি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে ওঠে, তাহলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ অন্য ইসলামপন্থী দলগুলোর সমর্থন নিয়েও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে আসিফ মাহমুদের বৈঠকও এ আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। যদিও দুই পক্ষই এটিকে নিয়মিত রাজনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—আসিফ মাহমুদ শেষ পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণেই নির্বাচন করবেন, নাকি নতুন সমঝোতার ভিত্তিতে অন্য কোনো সিটিতে প্রার্থী হবেন?

আসিফ মাহমুদ নিজে অবশ্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে এলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের সমঝোতা তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, এনসিপির লক্ষ্য হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যতটা সম্ভব বেশি সংখ্যক আসনে নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান স্পষ্ট হলেও চূড়ান্ত সমীকরণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। সাদিক কায়েমকে সামনে এনে জামায়াত নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির বার্তা দিতে চায়। অন্যদিকে, এনসিপিও আসিফ মাহমুদকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিষ্ঠার কৌশল নিয়েছে।

তফসিল ঘোষণার আগে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হবে, নাকি ঢাকা দক্ষিণে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে—সেই উত্তরই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.