নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন জট, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- Details
- by ২৪ ডেস্ক
সরকার ঘোষণা দিয়েছে, বাজেটে বরাদ্দও রাখা হয়েছে। কার্যকরের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬। তবু নবম জাতীয় পে-স্কেল এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। জুলাই মাস শেষের পথে হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাননি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সচিব পর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটির ধারাবাহিক বৈঠক শেষে প্রস্তাবটি এখন চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক বিশ্লেষণের পর্যায়ে রয়েছে। কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হলে তা অর্থ বিভাগের মাধ্যমে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন, আইনি যাচাই (ভেটিং) এবং গেজেট প্রকাশের পরই কার্যকর হবে নতুন বেতন কাঠামো।
নবম পে-স্কেলের সুবিধার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৯ লাখ পেনশনভোগী এবং বিপুলসংখ্যক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে অষ্টম পে-স্কেলের আওতায় থাকা এসব কর্মজীবী মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে।
বর্তমানে সরকার বছরে বেতন ও পেনশন বাবদ প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। এদিকে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে-স্কেলের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানায়, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রস্তুত পৃথক সুপারিশ সমন্বয় করে একটি একীভূত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন রাজনৈতিক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
গেজেট প্রকাশের আগে নতুন বেতন অনুযায়ী অর্থ ছাড় বা বেতন পরিশোধের সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনায় এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আইএমএফ জানতে চেয়েছে—পে-স্কেল কত ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর অর্থায়নের উৎস কী হবে। সরকার জানিয়েছে, এ জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আইএমএফ অন্তত দুই বছর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, বড়
ধরনের বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয়, বাজেট ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
যদিও সরকার এখন পর্যন্ত পে-স্কেল স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং বাস্তবায়নের কৌশল ও আর্থিক প্রভাব আরও পর্যালোচনার কথা বলছে সংশ্লিষ্টরা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ জন্য 'নেট পাবলিক সার্ভিস' খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা করা হয়েছে।
তবে ব্যয় শুধু মৌলিক বেতন বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং কর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাসভিত্তিক ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থাও হালনাগাদ করতে হবে। ফলে প্রথম বছরের পাশাপাশি পরবর্তী বছরগুলোর ব্যয়ও নতুন করে হিসাব করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও এখন প্রথম ধাপেই সংশোধিত মৌলিক বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা পরবর্তী অর্থবছরে সমন্বয় করা হতে পারে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলও একইভাবে দুই ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছিল। এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণের সম্ভাবনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সচিবালয় সংযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেছেন, সরকার যেহেতু নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দিয়েছে, তাই দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে এটি বাস্তবায়ন করা উচিত। তার ভাষ্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিলম্ব যত কম হবে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ততই ভালো হবে।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া এখন তিনটি ধাপে আটকে আছে—সচিব পর্যায়ের কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং আইনি যাচাই শেষে গেজেট প্রকাশ।
তবে গেজেট প্রকাশ হলেও সঙ্গে সঙ্গে নতুন বেতন হাতে পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সফটওয়্যার হালনাগাদ, বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
সব মিলিয়ে সরকারের সামনে এখন একদিকে লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যায্য প্রত্যাশা, অন্যদিকে অর্থনীতির বাস্তব সীমাবদ্ধতা। ফলে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাই।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.