আপনি পড়ছেন

হংকংয়ের একটি আদালত দুই গণতন্ত্রপন্থী কর্মীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। চীনের এই বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে মামলাটিকে দেখছেন সমালোচকেরা। খবর আল জাজিরার

হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ‘গণতন্ত্রপন্থী’ দুই কর্মী
হংকংয়ে আদালতে প্রবেশের সময় এক কর্মী। ছবি- এএফপি

দোষী সাব্যস্ত দুজন হলেন ৬৯ বছর বয়সী লি চুক-ইয়ান এবং ৪১ বছর বয়সী চাও হাং-তুং। দুজনই হংকং অ্যালায়েন্স ইন সাপোর্ট অব প্যাট্রিয়টিক ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টস অব চায়নার সাবেক নেতা। ১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে চীনা সরকারের দমন-পীড়নে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের ‘রাষ্ট্রক্ষমতা উৎখাতে উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবারের (২১ আগস্ট) রায়ে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে বলে জানায়। ২০২১ সালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল এবং তারা দুজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন। এই অভিযোগে তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে শুক্রবারের রায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে সাজা ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে তাদের সাজা নির্ধারণ করা হবে।

মামলার শুনানিতে সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, দুই কর্মী মানবাধিকারের কথা বলার আড়ালে জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করেছেন। মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী চাও হাং-তুং নিজেই নিজের পক্ষে আদালতে লড়াই করেছেন। মে মাসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই মামলায় আসলে আইনটিই বিচারের মুখোমুখি হয়েছে।

হংকংয়ে স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা কমিটি ফর ফ্রিডম ইন হংকং ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মার্ক ক্লিফোর্ড রায়কে ‘অপ্রত্যাশিত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, হংকংয়ের ‘বিকৃত’ বিচারব্যবস্থা ২০২১ সালেই কার্যত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ফেলেছিল। তিনি লি ও চাওকে ‘সত্যিকারের চীনা দেশপ্রেমিক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতাসীনদের সামনে সত্য তুলে ধরার কারণেই তাদের নীরব করে দেওয়া হয়েছে।

প্রায় তিন দশক ধরে হংকং অ্যালায়েন্সের আয়োজিত মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিই ছিল তিয়ানআনমেন দমন-পীড়নে নিহতদের স্মরণে চীনা ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য আয়োজন। প্রতি বছর এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিতেন। তবে ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম দিকে ওই কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরই বেইজিং হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করে। ২০১৯ সালে হংকংয়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর এই আইনের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

চলতি বছরের শুরুতে হংকংয়ের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও অধিকারকর্মী জিমি লাইও জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। পরে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের আগে নিজের ব্যক্তিগত ব্লগে চাও হাং-তুং কারাগারে তার ওপর নেওয়া বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে কুকুরের মতো শিকলে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো এবং তার হাত, কোমর ও গোড়ালিতে হাতকড়া ও শিকল পরানো হতো।

দীর্ঘ সময় আটকে রাখার সময় বিশেষ ধরনের হাতকড়া ব্যবহারের কারণেও তিনি তীব্র ব্যথার কথা জানান। তার ভাষ্য, ওই ধরনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় শরীরকে অস্বাভাবিকভাবে বাঁকিয়ে রাখতে বাধ্য করা হয়, ফলে শরীরের কোনো না কোনো অংশে ক্রমাগত যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। হংকংয়ে আটক থাকা উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে চাও অল্প কয়েকজনের একজন, যিনি এখনো প্রকাশ্যে কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে চলেছেন।

১৯৮৯ সালের জুনে বেইজিংয়ের কেন্দ্রস্থল তিয়ানআনমেন স্কয়ারে গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের দমনে চীনা সরকার ট্যাংক ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। সেনাবাহিনীর অভিযানে শত শত, এমনকি কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হয়। আহত হন আরও বহু মানুষ।

এরপর থেকে চীন সরকার দেশটির ভেতরে ওই ঘটনার উল্লেখ ও আলোচনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। হংকংয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিয়ানআনমেনের নিহতদের স্মরণে প্রকাশ্য কর্মসূচি আয়োজন করা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই সুযোগও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.