কাদিমে ফিরেছে নতুন প্রজন্মের ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিমে ফিরেছে নতুন প্রজন্মের ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। আগের সরকারের সিদ্ধান্তে ২০০৫ সালে উচ্ছেদ করা হয়েছিল এই বসতি। আঞ্চলিক বসতি স্থাপনকারী পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তেল আবিব থেকে ৩০টি পরিবার কাদিমে পৌঁছায়। ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের উসকে দেওয়া ইহুদি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্যেই তারা সেখানে ফিরেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারগুলো ছোট ছোট দলে কাদিমে পৌঁছায়। কারও সঙ্গে ছিল সামরিক পাহারা। ফিলিস্তিনি গ্রাম ও কৃষিজমির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের গাড়িতে উড়ছিল ইসরায়েলের নীল-সাদা পতাকা। কয়েকটি গাড়িতে বিছানাপত্র, আসবাবপত্র ও নির্মাণসামগ্রী বোঝাই ট্রেলারও ছিল।
বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেন, উত্তর সামারিয়া থেকে উচ্ছেদের অপরাধের ২১ বছর পর আমরা সেই ভুল সংশোধন করেছি এবং কাদিমে ফিরে এসেছি। পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলকে বোঝাতে তিনি বাইবেলীয় ‘উত্তর সামারিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করেন। ইসরায়েলের বিচারমন্ত্রী, পার্লামেন্ট নেসেটের স্পিকার এবং আঞ্চলিক বসতিস্থাপনকারী পরিষদের প্রধান ইয়োসি দাগান বলেন, একদিন বসতিস্থাপনকারীরা গাজাতেও ফিরে যাবে।
ফিলিস্তিনি শহর জেনিনের বাইরে একটি ছোট পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত কাদিম। ২০০৫ সালে ইসরায়েলের তৎকালীন সরকার একতরফা ‘ডিসএনগেজমেন্ট প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে কাদিম খালি করে দেয়। ওই পরিকল্পনার আওতায় গাজা উপত্যকা থেকেও সব ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ও সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের গ্যানিম, সানুর ও হোমেশ—এই তিনটি বসতিও ভেঙে দেওয়া হয়।
ওই সময়ে চারটি বসতিকে বিচ্ছিন্ন, নিরাপত্তার জন্য ব্যয়বহুল এবং কৌশলগতভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে কাদিমের পাহাড়চূড়ায় আবারও সাদা রঙের ট্রেলার বসানো শুরু হয়। পরিবারগুলো সেখানে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে সেখানে থাকা বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পাওয়া যায়নি।
কাদিমের পাশের একটি মাটির রাস্তা ধরে গিয়ে এক ফিলিস্তিনি সবজি চাষির সঙ্গে কথা হয়। ৫৩ বছর ধরে নিজের জন্মভিটায় বসবাস করছেন তিনি। শৈশবে কাদিমে প্রথমবার বসতি গড়ে উঠতে দেখেছিলেন তিনি। আবার দুই দশক পর ইসরায়েলি সরকারের নির্দেশে সেই বসতিস্থাপনকারীদের উচ্ছেদও দেখেছেন। তিনি বলেন, তখন ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা তাদের পাশেই থাকতেন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ছিল। তারা তাদের জীবনযাপন করত, আমরা আমাদেরটা। কিন্তু এখন বসতিস্থাপনকারীদের ফিরে আসায় তিনি আতঙ্কিত।
তার অভিযোগ, আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের সময় দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভাতিজাদের সবজি ও কমলাগাছের বাগান থেকে সরিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, এখানে তোমাদের কোনো জায়গা নেই, ফিরে এসো না। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় তার পরিবার হাইফা থেকে পালিয়ে এই এলাকায় এসেছিল। আমার জীবনে আর কোনো উচ্ছেদ বাকি নেই। আমরা এক ধরনের অসহায় মেনে নেওয়ার অবস্থায় বাস করছি। এটা ভয়ের জীবন।
শান্তিপন্থী ইসরায়েলি সংগঠন পিস নাওয়ের ‘সেটেলমেন্ট ওয়াচ’ কর্মসূচির পরিচালক হাগিত অফরানের মতে, জেনিন এলাকায় দ্রুত বসতি নির্মাণ বৃহত্তর একটি পরিকল্পনার অংশ। তার দাবি, অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে পশ্চিম তীরে যত দ্রুত সম্ভব বসতি সম্প্রসারণ করতে চাইছে সরকার। জেনিনের পশ্চিমে নতুন বসতি এমেক দোতান গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় দুই ডজন ইহুদি পরিবার বসবাস করছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.