আপনি পড়ছেন

আর্জেন্টিনা যদি আবারও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের সহায়তায় এগিয়ে আসবে কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে বড় ধরনের সহায়তা না করায় যুক্তরাজ্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।

ফকল্যান্ড দ্বন্দ্বে যুক্তরাজ্যকে সহায়তা নিয়ে ট্রাম্পের ধোঁয়াশা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন করে কোনো সংঘাত শুরু হলে ওয়াশিংটন যুক্তরাজ্যের পাশে দাঁড়াবে কি না। জবাবে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করলেও তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।

ট্রাম্প বলেন, ‘যখন তাদের প্রথম যুদ্ধটি হয়েছিল, তখন আমি সেখানে ছিলাম। সেটি অনেক আগের কথা এবং আমি বিষয়টি খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। আপনারা খুব ভালোভাবে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছিলেন। আপনারা বেশ শক্তভাবেই এটি পুনরুদ্ধার করেছিলেন, তবে জায়গাটি অনেক দূরে অবস্থিত।’

এরপরই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সেখানে লন্ডন ওয়াশিংটনকে পর্যাপ্ত সহায়তা করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে সাহায্য করার জন্য আপনাদের দেশ পাশে ছিল না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি সামরিক জাহাজ পাঠানোর জন্য ন্যাটো সদস্য দেশগুলো এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে অনুরোধ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন ছিল না, তবুও আমি ন্যাটো এবং আপনাদের সাবেক নেতাকে অনুরোধ করে বলেছিলাম, কেন আপনারা কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছেন না?’

ফকল্যান্ড প্রসঙ্গে ফিরে এসে ট্রাম্প সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, ১৯৮২ সালের মতো দক্ষিণ আটলান্টিকের এই অঞ্চলটি রক্ষা করার মতো সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাজ্যের এখনো রয়েছে কি না।

তিনি বলেন, ‘২০ বা ২৫ বছর আগে আপনাদের দেশ যেমন ছিল, এখন আর তেমনটি নেই। আপনাদের সেই সক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে। এটি অনেক বড় একটি ব্যবধান।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। আর্জেন্টিনা এই দ্বীপপুঞ্জকে মালভিনাস বলে ডাকে এবং এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।

স্প্যানিশ রাজপরিবারের উত্তরাধিকার এবং ঐতিহাসিক নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব দাবি করে। অন্যদিকে ১৮৩৩ সাল থেকেই এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে যুক্তরাজ্য।

১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে বিতর্কিত এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ফকল্যান্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ মূলত পূর্ব ফকল্যান্ড ও পশ্চিম ফকল্যান্ড নামের দুটি প্রধান দ্বীপ এবং সাত শতাধিক ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত। প্রায় ১২ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপপুঞ্জটি আর্জেন্টিনার দক্ষিণ উপকূল থেকে আনুমানিক ৪৮০ কিলোমিটার (২৯৮ মাইল) দূরে অবস্থিত এবং এর উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার (৮০৮ মাইল)।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.