আপনি পড়ছেন

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় ধরনের জয়ের পথে রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যটি শাসন করা চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ) তাদের ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল ফলাফলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে অন্য সব রাজনৈতিক দলের চেয়ে এএফডি বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

পূর্ব জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের জয়ের আভাস, চাপে মের্ৎস
জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থী দল এএফডির বিরুদ্ধে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান

বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির জনসমর্থন ৪০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এটি যে কোনো রাজ্য নির্বাচনে দলটির জন্য সবচেয়ে বড় সাফল্য হতে পারে। আইনসভায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোট পেতে যদি কয়েকটি ছোট দল ব্যর্থ হয়, তবে কট্টর ডানপন্থীদের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং প্রথমবারের মতো একটি রাজ্য সরকার গঠন করাও সম্ভব হতে পারে।

জার্মানির সাবেক কমিউনিস্ট পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধসহ পরবর্তী বিভিন্ন ধাক্কার অর্থনৈতিক প্রভাব এবং পূর্ব জার্মানির ভোটারদের উদ্বেগ নিরসনে চ্যান্সেলর মের্ৎস, সিডিইউ ও সাম্প্রতিক জোট সরকারগুলোর ব্যর্থতাই এএফডির এই নাটকীয় উত্থানের মূল কারণ।

পূর্ব জার্মানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইয়ানা হেনসেল জানান, পুনরেকত্রীকরণের প্রায় ৩৬ বছর পরেও পূর্বাঞ্চল পশ্চিম জার্মানির মতো সমৃদ্ধির স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি আরও যোগ করেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো এবং পূর্বাঞ্চলের মধ্যে এখনও বিশাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে।

আনাদোলু এজেন্সিকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও জার্মানির অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ সব বিতর্ক পশ্চিম জার্মানির দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই পরিচালনা করি। পূর্ব জার্মানির অনেকেরই মনে হয় যে তারা দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে বাস করছেন এবং তাদের প্রতি নজর দেওয়া হচ্ছে না।’

স্যাক্সনি-আনহাল্টে মের্ৎসের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন ধসে পড়ার মধ্য দিয়েই এই অসন্তোষ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন জোটসঙ্গীদের নিয়ে রাজ্যটি পরিচালনা করে আসছে সিডিইউ। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট ও ফ্রি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সরকার গঠন করেছিল। তবে পাঁচ বছর পর বর্তমানে দলটির সমর্থন কমে প্রায় ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

পূর্ব জার্মানি নিয়ে একাধিক বইয়ের লেখক হেনসেল জানান, রোববারের এই নির্বাচন কেবল রাজ্য ও স্থানীয় রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্লিনে মের্ৎসের অর্থনৈতিক নীতি এবং ইউক্রেন ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের প্রতি ক্ষোভ এএফডির জনপ্রিয়তা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘পূর্ব জার্মানিতে এমন একটি অনুভূতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে এখানকার মানুষদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। আর নিশ্চিতভাবেই এই রাজ্য নির্বাচনটি ফ্রিডরিখ মের্ৎসের প্রতি একটি অনাস্থা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধেও একটি ভোট। এটি ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সংস্কার প্যাকেজের বিরুদ্ধে একটি বার্তা।’ এ সময় তিনি কর, পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চ্যান্সেলরের নেওয়া অজনপ্রিয় পরিকল্পনাগুলোর কথা উল্লেখ করেন।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে মের্ৎসের প্রতি অসন্তোষ এতটাই তীব্র ছিল যে সিডিইউর শীর্ষ প্রার্থী ও প্রিমিয়ার সভেন শুলৎজে নির্বাচনী প্রচারের সময় বার্লিনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। অন্যদিকে চ্যান্সেলর মের্ৎস নিজেও এই রাজ্যের বড় কোনো জনসভা বা সরাসরি ভোটারদের মুখোমুখি হওয়ার কর্মসূচি থেকে দূরে ছিলেন।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি গতি পেয়েছে তাদের জনপ্রিয় কট্টর ডানপন্থী নেতা উলরিখ জিগমুনদের হাত ধরে। তিনি দলটির সনাতন ভিত্তির বাইরেও সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোর তৎপরতা এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে তিনি ইতোমধ্যে একটি সরকারি রূপরেখা এবং অভিবাসন নীতি কঠোর করার ওপর ভিত্তি করে ১০০ দিনের একটি পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছেন।

জিগমুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বৈধ কাগজপত্রবিহীন মানুষদের একেবারে ‘প্রথম মিনিট থেকেই’ বহিষ্কার করা হবে, অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোর সংখ্যা সীমিত থেকে বাড়িয়ে শত শতে রূপান্তর করা হবে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের কাজ করার বাধ্যবাধকতা থাকবে, অন্যথায় তাদের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টেফেন মাউ উল্লেখ করেছেন, জার্মানির অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব এবং বয়োবৃদ্ধ ও হ্রাস পাওয়া জনসংখ্যার এই রাজ্যে জিগমুনদের বক্তব্য ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

আনাদোলুকে মাউ বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে জনসংখ্যা কমছে, কিন্তু অভিবাসন বাড়ছে। ফলে যেসব সমাজের জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে তারা অভিবাসন ও নবাগতদের ভয় পায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রবণতা আমরা কেবল এখানেই নয়, পূর্ব জার্মানির অন্যান্য অংশেও দেখতে পাই।’

এএফডি অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের ওপর ভর করে এগিয়ে গেলেও মূলধারার দলগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে কট্টর ডানপন্থীদের বিজয় রাজনৈতিক পরিবেশকে বিষাক্ত করবে, মেরুকরণ গভীর করবে এবং নব্য-নাৎসি ও অন্যান্য চরম ডানপন্থী গোষ্ঠীকে আরও উৎসাহিত করবে।

জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এএফডির স্যাক্সনি-আনহাল্ট শাখাকে চরম ডানপন্থী চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে নিশ্চিত করেছে। এই মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে সিডিইউ এবং অন্যান্য মূলধারার দলগুলো প্রচারণাজুড়ে জানিয়েছে, রোববারের নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, তারা এএফডির সঙ্গে কোনো সহযোগিতা করবে না বা তাদের সঙ্গে কোনো জোটে যাবে না।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি জোরেশোরে প্রচারণার সময় ইউক্রেন যুদ্ধকে মের্ৎসের ওপর আক্রমণের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় দলটি বলেছে, ইউক্রেনকে জার্মানির দেওয়া সামরিক ও আর্থিক সহায়তা সম্পূর্ণ বন্ধ করা উচিত।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.