আপনি পড়ছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের বিতর্কিত অভিবাসন ও নির্বাসন নীতি তুলে ধরতে হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ওয়েবসাইটে পাঁচটি অনলাইন আর্কেড গেম চালু করেছে। বৃহস্পতিবার উন্মুক্ত করা এসব খেলায় অভিবাসীদের আটক ও সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণকে বিনোদনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে নীতিগুলোর বাস্তব মানবিক পরিণতি উপেক্ষা করে এমন তুচ্ছ উপস্থাপনার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসনটি।

অভিবাসন নীতি নিয়ে হোয়াইট হাউসের অনলাইন গেম
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘রিও রান’ আর্কেড গেমের দৃশ্য

‘বিল্ড দ্য ওয়াল’, ‘রিও রান’, ‘সাপ্লাই লাইন’, ‘ফ্ল্যাপি বিল’ এবং ‘ট্রাম্প সেভিংস টাইকুন’—হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে যুক্ত হওয়া এই পাঁচটি খেলায় খেলোয়াড়রা সীমান্তের তথাকথিত ‘দল’-এর বিরুদ্ধে ইট সাজিয়ে প্রাচীর তোলেন, পিক্সেল আকারের অভিবাসীদের আটক করেন, স্কুলের খাবারের তালিকা থেকে অস্বাস্থ্যকর উপাদান সরিয়ে দেন, আইন পাস করানোর চেষ্টা চালান এবং শিশুদের সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের জন্য টাকা সংগ্রহ করেন।

সচেতনভাবেই পুরনো ধাঁচের নস্টালজিক গ্রাফিক্সের আড়ালে এমন কিছু নীতিকে তুলে ধরা হয়েছে, যার প্রতি জনসমর্থন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। বাস্তব জীবনে যার প্রভাব পড়ছে অভিবাসী, পরিবার ও শিশুদের ওপর, তাদেরই খেলায় পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বন্দি করার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে কম রেজল্যুশনের বিনোদন হিসেবে রূপ দেওয়ায় একজন অঙ্গরাজ্য আইনপ্রণেতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুতর বিষয়কে প্রশাসন গুরুত্বহীন করে ফেলছে এবং এর পেছনে থাকা মানবিক ক্ষতিকে আড়াল করছে।

গেমগুলোর মধ্যে দুটি সরাসরি ট্রাম্পের সীমান্ত ও নির্বাসন নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’ গেমটি ‘জম্বি বর্ডার সিজ’ বা জম্বিদের সীমান্ত অবরোধের আদলে টেট্রিস গেমের নিয়মে তৈরি করা হয়েছে। এখানে খেলোয়াড়দের ওপর থেকে পড়া ব্লক সাজিয়ে প্রাচীর তৈরি করতে হয় এবং নির্দেশনায় বলা হয়, ‘আসন্ন দলের হাত থেকে সীমান্ত রক্ষা করো।’

‘রিও রান’ গেমটি ক্লাসিক সাপ খেলার আদলে বানানো। এতে রিও গ্রান্দে নদীর ওপর ট্রাম্পের ‘সীমান্ত জার’ টম হোমানের একটি পিক্সেল চরিত্র রাখা হয়েছে। খেলোয়াড়দের সেই চরিত্র দিয়ে সীমান্ত পার হওয়া মানুষদের একের পর এক আটক করতে হয়, তবে কোনো অবস্থাতেই পেছনে ফিরে আসা যাবে না বলে সতর্ক করা হয়।

বিভিন্ন ত্বকের রঙের ক্ষুদ্র মানবমূর্তি হিসেবে দেখানো এসব অভিবাসীকে মূলত পয়েন্ট সংগ্রহের বস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। প্রশাসনের যে নীতির ফলে ব্যাপক গণগ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসনের ঘটনা ঘটছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই গেমটি তৈরি।

বাকি গেমগুলোতে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগগুলো একইভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘সাপ্লাই লাইন’ গেমে প্রশাসনের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ কর্মসূচির অধীনে স্কুলের খাবারের কনভেয়ার বেল্ট থেকে ভোজ্য তেল, কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত পণ্য ফেলে দিতে হয়।

‘ফ্ল্যাপি বিল’ গেমে একটি টেকো ঈগল ওয়াশিংটনের স্মৃতিস্তম্ভের ওপর বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে আইন এগিয়ে নিয়ে যায়। আর ‘ট্রাম্প সেভিংস টাইকুন’ গেমে খেলোয়াড়দের জাল দিয়ে ওপর থেকে পড়া নগদ অর্থ ও সোনার বার ধরে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’-এ জমা করতে হয়, যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য প্রশাসনের একটি বিনিয়োগ কর্মসূচি।

হোয়াইট হাউস ভিডিও গেম কনসোলের লোডিং স্ক্রিনের অনুকরণে ভিডিও তৈরি করে এই আর্কেডের প্রচার চালিয়েছে। এর একটিতে ‘সেগা’ (Sega) লোগোকে রূপান্তর করে ট্রাম্পের স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘মাগা’ (MAGA) বানানো হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে গেমগুলোর লিংক শেয়ার করে লেখা হয়, ‘জয়ের ধারা থামানো যাচ্ছে না।’

গেমগুলো এমন এক সময়ে উন্মুক্ত করা হলো যখন ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির, বিশেষ করে নির্বাসন ব্যবস্থার প্রতি জনসমর্থন কমছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত পদক্ষেপের প্রতি ৩৮ শতাংশ আমেরিকান সমর্থন জানিয়েছেন, যা তার হোয়াইট হাউসে ফেরার পরপরই ছিল ৫০ শতাংশ।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপেও নির্বাসনের বিষয়ে একই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৪ শতাংশ আমেরিকান মনে করতেন ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নে ‘অতিরিক্ত কঠোরতা’ দেখাচ্ছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে। একই সময়ে প্রশাসনের পদক্ষেপকে ‘যথাযথ’ মনে করা মানুষের হার ৪৭ শতাংশ থেকে কমে ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সমালোচনার মুখে রয়েছেন, তখনই এই গেমগুলো চালু করা হলো। হরমুজ প্রণালী দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও সার সরবরাহ চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ম্যাট লেসার ওয়েবসাইটের এই উদ্যোগ এবং সাধারণ পরিবারগুলোর আর্থিক সংকটের বৈপরীত্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, যখন হিটিং অয়েলের দাম প্রায় রেকর্ড ছুঁয়েছে, তখন প্রশাসন হোমানকে নিয়ে ভিডিও গেম পরিবেশন করছে।

লেসার এক্সে লিখেছেন, হিটিং অয়েলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চের কাছাকাছি, কিন্তু আপনারা চাইলে ভিডিও গেমে বর্ডার জার টম হোমান চরিত্র নিয়ে খেলতে পারেন।

অধ্যাপক, নীতি পরামর্শক এবং স্বাধীন সাংবাদিক অ্যাডাম ককরান এক্সে এই উদ্যোগকে ‘আমেরিকার ইতিহাসে এক হতাশাজনক ও লজ্জাজনক মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ওয়াশিংটন এক্সামিনারকে দেওয়া এক বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের সাফল্যগুলো সবার কাছে পৌঁছানো এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিপরীতে প্রশাসনের ‘আনন্দ ও জয়ের’ সংস্কৃতি তুলে ধরতেই এটি করা হয়েছে।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.