আপনি পড়ছেন

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য নির্বাচনে অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দল নিজেদের জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে ঘোষণা করেছে। তাদের দাবি, এই নির্বাচনের ফলাফল তাদের সরকার গঠনের স্পষ্ট জনাদেশ দিয়েছে। তবে অন্যান্য প্রধান দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট গঠনে অস্বীকৃতি জানানোয় রাজ্যটিতে সরকার গঠন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিল জার্মানির এএফডি
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা

প্রাথমিক ফলাফলের পর সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফকে এএফডি নেতা অ্যালিস ভাইডেল বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ফলাফল।’

তিনি এই ফলাফলকে ‘সরকার পরিচালনার অত্যন্ত স্পষ্ট জনাদেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা এখানে রেকর্ড ভাঙছি; আমরা পুরো পূর্ব জার্মানি এবং ফেডারেল পর্যায়েও রেকর্ড ভাঙব।’

ভাইডেল সতর্ক করে বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস-এর ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দল যদি এএফডির সঙ্গে সহযোগিতার বিরুদ্ধে তাদের ‘ফায়ারওয়াল’ বা প্রতিরোধ নীতি বজায় রাখে, তবে তারা ‘আর কখনোই কোনো নির্বাচনে জিততে পারবে না।’ সিডিইউর জন্য এই ফলাফলকে তিনি ‘একটি বিপর্যয়কর ফলাফল’ বলে আখ্যায়িত করেন।

ভাইডেলের মন্তব্যের প্রতিধ্বনি করে দলটির সহ-নেতা টিনো ক্রুপাল্লা ফলাফলটিকে ‘চাঞ্চল্যকর’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘উলরিখ সিগমুন্ড হবেন স্যাক্সনি-আনহাল্টের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।’

তবে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী সভেন শুলৎস সরকার গঠনের জন্য এএফডির সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। নির্বাচনের পর সম্প্রচারমাধ্যম এমডিআরকে সিডিইউর এই রাজ্য নেতা বলেন, ‘এএফডির সঙ্গে কাজ করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আজ কারও সঙ্গেই কাজ করার প্রশ্নটি টেবিলে নেই।’

এর আগে সম্প্রচারমাধ্যম এআরডিকে দেওয়া বক্তব্যে শুলৎস এএফডির সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সিডিইউর ‘ফায়ারওয়াল’ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দেওয়া এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে সিডিইউর সাধারণ সম্পাদক ফ্রাঞ্জিস্কা হোপারম্যান বলেন, স্যাক্সনি-আনহাল্টের ফলাফল ফেডারেল সরকারের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

হোপারম্যান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘ফেডারেল সরকার ও সংসদ চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়—এবং আজ সন্ধ্যায় সেটি কোনো আলোচনার বিষয় নয়।’

এএফডির সঙ্গে যেকোনো ধরনের জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চরমপন্থীদের সঙ্গে কাজ করি না—বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থীদের সঙ্গে তো নয়ই।’

হোপারম্যান আরও যোগ করেন, সিডিইউ এমন একটি দলের সঙ্গে কাজ করতে পারে না যারা ইউরো মুদ্রা ত্যাগ করতে চায়, রাশিয়াকে বন্ধু হিসেবে গণ্য করে এবং ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান, আমাদের দেশ ও এর জনগণকে অপমান করে।’

স্যাক্সনি-আনহাল্টের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এএফডিকে কট্টর ডানপন্থী চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

এআরডির প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবারের নির্বাচনে এএফডি রেকর্ড ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছে। অন্যদিকে মের্ৎসের সিডিইউ দল তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটে নেমে এসেছে।

রেকর্ড ভোট পেলেও মাগডেবার্গের রাজ্য পার্লামেন্টে এএফডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সব প্রধান দলই এএফডির সঙ্গে জোট গঠনে অস্বীকৃতি জানানোয়, নির্বাচনের এই ফলাফল রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরকার গঠনে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, কট্টর ডানপন্থী দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ফ্রাঙ্কফুর্ট, বার্লিন এবং মাইনৎসসহ জার্মানির বেশ কয়েকটি শহরের রাস্তায় নেমে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

‘গণতন্ত্র রক্ষা করুন! – এখনই এএফডি নিষিদ্ধ করুন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবাদ মিছিল বার্লিনের সরকারি এলাকা অতিক্রম করে।

সোমবার সন্ধ্যায় বার্লিনের ঐতিহাসিক ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটে এএফডির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এই সমাবেশে ৫ হাজার মানুষ অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.