দেশ ছাড়ছেন ইসরায়েলিরা: প্রত্যাবর্তন কমেছে ৫৮ শতাংশ
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০০৯ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে নিজ দেশে ফিরে আসা ইসরায়েলিদের সংখ্যা ৫৮ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ইসরায়েলি বিদেশে বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার দেশটির সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংসদের সরকারি ওয়েবসাইটের বরাতে জানা যায়, ইসরায়েলিদের ক্রমবর্ধমান দেশত্যাগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নেসেটের অভিবাসন, আত্মীকরণ ও ডায়াস্পোরা বিষয়ক কমিটি এই বৈঠকের আয়োজন করে।
নেসেট রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৪ হাজার ৪৮৩ জন ইসরায়েলি দেশে ফিরেছেন, যেখানে ২০০৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৯০৩। এর আগে ২০০৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিদেশে বসবাসের পর প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ইসরায়েলি দেশে ফিরেছিলেন, যা বছরে গড়ে প্রায় ৭ হাজার। এছাড়া বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ইসরায়েলি দেশের বাইরে বসবাস করছেন বলে কমিটির কাছে আনুমানিক হিসাব উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফেরত আসা ইসরায়েলিদের ৪৫ শতাংশ এসেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ৬ শতাংশ, কানাডা থেকে ৫ শতাংশ এবং ফ্রান্স থেকে ৪ শতাংশ ফিরেছেন। জার্মানি, রাশিয়া, রোমানিয়া ও ইউক্রেন থেকে ফিরেছেন ৩ শতাংশ করে এবং অস্ট্রেলিয়া, ইতালি ও মলদোভা থেকে ফিরেছেন ২ শতাংশ করে নাগরিক।
ফিরে আসাদের এক-চতুর্থাংশের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক, আর ৪৭ শতাংশের বয়স ২৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ফিরে আসা নাগরিকদের প্রায় ৭০ শতাংশ অন্তত পাঁচ বছর বিদেশে বসবাস করার পর দেশে ফিরেছেন।
বৈঠকে অভিবাসন, আত্মীকরণ ও ডায়াস্পোরা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান গিলাদ কারিভ বিদেশে বসবাসরত ইসরায়েলিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের সর্বশেষ আলোচনার পর থেকে প্রকাশিত অতিরিক্ত তথ্যে দেখা গেছে, ইসরায়েলে ফিরে আসা নাগরিকদের সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে থাকা ইসরায়েলিদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল কমিটি। ২০১০ সালে এমন একটি পরিকল্পনা নেওয়া হলেও পরে আর তা নবায়ন করা হয়নি।
কারিভ বলেন, ‘ইসরায়েলিদের মাতৃভূমিতে ফিরতে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যবশত সরকার আমাদের সুপারিশগুলো উপেক্ষা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনে উৎসাহিত করার উপায় খুঁজে বের করতে সরকার কোনো গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করতেও ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েলে দেশত্যাগ মোকাবিলার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা নেই উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব এড়ানোর অভিযোগ তোলেন।
সংসদীয় বৈঠকে চিকিৎসকদের ক্রমবর্ধমান দেশত্যাগের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইতাই আটার বলেন, ‘আমরা দেখছি দেশ ছেড়ে যাওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ছে এবং ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা কমছে।’ তিনি জানান, দেশ ছেড়ে যাওয়া চিকিৎসকদের প্রায় ২০ শতাংশই অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক। বিশ্বের অন্যান্য দেশ চিকিৎসা পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎস তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার বরাতে জানায়, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৩৭০ জন চিকিৎসক ইসরায়েল ত্যাগ করেছেন। এই সময়ে দেশ ছাড়া প্রতি পাঁচজন চিকিৎসকের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ৪৫ বছরের বেশি, যাকে গবেষণায় উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালের প্রায় ২৪ শতাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন। একই সঙ্গে বর্তমানে কর্মরত প্রায় ২৫ শতাংশ চিকিৎসক ইতোমধ্যেই অবসরের বয়স পেরিয়ে গেলেও কর্মী সংকটের কারণে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ জন ইসরায়েলি অন্তত তিন মাসের জন্য দেশ ছেড়েছেন। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান এটিকে রেকর্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েলি বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা যুদ্ধের প্রভাব, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং বিচার বিভাগকে দুর্বল করার সরকারি উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক সংকটের কারণেই দেশটিতে অভিবাসন প্রবণতা বাড়ছে।
কানের জন্য কান্তার পরিচালিত এবং ৯ আগস্ট প্রকাশিত এক জনমত জরিপে উঠে আসে, বিগত দুই বছরে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ইসরায়েলি দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভেবেছেন। প্রায় ১২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল তাদের দেশে থাকা বা দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
৭ আগস্ট ইসরায়েল হায়োম পত্রিকা দেশটির কর কর্তৃপক্ষের একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে জানায়, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ধনী ইসরায়েলিদের দেশত্যাগের হার দ্বিগুণ হয়েছে। তাদের দেশ ছাড়ার কারণে বার্ষিক করের ক্ষতি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রায় ৫০ কোটি শেকেল (১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার) থেকে বেড়ে ১২০ কোটি শেকেলে (৪০ কোটি ডলার) পৌঁছেছে।
এমন এক সময়ে এসব পরিসংখ্যান সামনে এলো, যখন গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। এই হামলায় ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। পাশাপাশি অঞ্চলটির প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সাথে লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নাগরিকদের এই ব্যাপক দেশত্যাগের ঘটনা ঘটছে।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.