ল্যাভরভ: ইউক্রেন নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বাস্তবসম্মত
- Details
- by আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং কিয়েভকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মস্কোয় মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে এই নীতিগুলোই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

চ্যানেল ওয়ানের ‘বলশায়া ইগ্রা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে।
ল্যাভরভ বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি, যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তার মূল ভিত্তি হলো ওভাল অফিসে ফিরে আসার পরপরই ইউক্রেন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন তা।’
তিনি জানান, মার্কিন অবস্থানের প্রথম দিকটি হলো ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটে নেওয়ার প্রচেষ্টা পুরোপুরি পরিত্যাগ করা।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) সবার আগে বলেছেন, ইউক্রেনকে উত্তর আটলান্টিক জোটে নেওয়ার চেষ্টা করার বিষয়টি তাদের পুরোপুরি ভুলে যাওয়া উচিত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প এই ইস্যুটিকে ‘মীমাংসিত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ল্যাভরভের মতে, মার্কিন অবস্থানের দ্বিতীয় বিষয়টি হলো ‘মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা’ মেনে নেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মস্কোর কাছে এই শব্দের অর্থ কেবল ভূখণ্ড নয়, বরং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বসবাসকারী জনগণ এবং তাদের রাজনৈতিক পছন্দ।
তিনি বলেন, ‘যতদূর আমরা বুঝতে পারছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দল যেসব বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে, তা মূলত জনগণের সঙ্গে সম্পর্কিত।’
মস্কো ও কিয়েভে উইটকফ এবং কুশনারের আলোচনা নিয়ে চলা বিভিন্ন জল্পনাকল্পনা উড়িয়ে দেন ল্যাভরভ। তিনি জানান, মার্কিন পক্ষ তাদের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিস্তারিত বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
ল্যাভরভ বলেন, ‘ইউক্রেনের পার্লামেন্ট ভারখোভনা রাদার এক নারী সদস্য এরই মধ্যে বলেছেন, তারা (উইটকফ ও কুশনার) যা নিয়ে এসেছিলেন তা ইউক্রেন অতীতে যা প্রত্যাখ্যান করেছিল তার চেয়েও খারাপ।’
আসন্ন ২০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের পর রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে এমন খবরও তিনি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, এই ধরনের বক্তব্য ওয়াশিংটন থেকে নয়, বরং ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এসেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান প্রসঙ্গে ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের একাধিক সুযোগ ইউরোপীয় দেশগুলো পেয়েছিল, কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি।
তিনি বলেন, ‘গঠনমূলক ভূমিকা পালনের জন্য ইউরোপীয়দের সামনে বিপুল সুযোগ ছিল। তারা মনে করে যে তাদের ছাড়া কোনো আলোচনা হতে পারে না এবং তাদের অবশ্যই আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে।’
এই প্রসঙ্গে তিনি ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির আলোচনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি ২০২২ সালে ইস্তাম্বুলে রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে রুশ মধ্যস্থতাকারীরা ইউক্রেনের দেওয়া প্রস্তাবগুলো মেনে নিয়েছিল।
মিনস্ক চুক্তি নিয়ে পরবর্তী সময়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল, ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এবং ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর কড়া সমালোচনা করেন ল্যাভরভ। তিনি বলেন, তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে চুক্তিটি ইউক্রেনকে তাদের সেনাবাহিনী শক্তিশালী করার সময় দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল।
২০২২ সালের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা নিয়ে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ল্যাভরভ।
ইউক্রেনের ক্ষমতাসীন ‘সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল’ দলের তৎকালীন ও বর্তমান সংসদীয় নেতা ডেভিড আরাখামিয়ার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বরিস জনসনই ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ল্যাভরভ বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের মতো একই রকম যুক্তিসঙ্গত ও দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়ার সুযোগ ইউরোপীয়দের সামনেও ছিল—অর্থাৎ প্রকৃত তথ্য, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এবং সেখানে বসবাসরত মানুষ ও তাদের দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নজর দেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, কিন্তু তা না করে ইউরোপীয় সরকারগুলো রাশিয়ার ‘কৌশলগত পরাজয়’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং দাবি করছে যে ইউক্রেন ইউরোপীয় মূল্যবোধ রক্ষা করছে।
এই যুক্তির তীব্র সমালোচনা করে ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেন নিজেই ভাষা, জাতীয়তা ও ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
ইউরোপে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে নিজের আগের সতর্কবার্তার বিষয়ে ল্যাভরভ জানান, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস-এর বক্তব্যের কারণেই তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মের্ৎস বারবার বলেছেন যে রাশিয়া ইউরোপের জন্য প্রধান হুমকি এবং জার্মানিকে মহাদেশটির শীর্ষ সামরিক শক্তিতে পরিণত হতে হবে।
ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়ার তথাকথিত হুমকির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য জার্মানিকে প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার বলেছেন মের্ৎস।
ল্যাভরভ বলেন, ‘তিনি (মের্ৎস) সত্যিই এটি বিশ্বাস করেন।’ তিনি মের্ৎসের বক্তব্যকে কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে বিবেচনা করছেন না বলেও জানান।
আগামী নভেম্বরে চীনে পুতিন, ট্রাম্প এবং চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ল্যাভরভ জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট এমন বৈঠক প্রত্যাখ্যান করবেন না।
গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...
খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর
Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.
Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.