আপনি পড়ছেন

ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হেফাজত থেকে মুক্তি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি, বিশেষ করে হৃদ্‌রোগের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় বিচার শুরুর আগ পর্যন্ত তাঁকে গৃহবন্দি রাখার আবেদন জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা। খবর আল জাজিরার

হৃদরোগে আক্রান্ত মাদুরোর স্ত্রী গৃহবন্দিত্ব চান
নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেস

গত বুধবার করা ওই আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা তাকে ম্যানহাটনের একটি বাসায় গৃহবন্দি রেখে মামলার বিচার কার্যক্রমের অপেক্ষা করার অনুমতি দিতে আদালতের প্রতি অনুরোধ করেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে কারাকাস থেকে অপহরণ করে তাঁকে নিউইয়র্কে বন্দি করার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। একই অভিযানে তাঁর স্বামী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকেও আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়।

আইনি নথিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর আগে ফ্লোরেস শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করতেন না। শুধু হৃদ্‌যন্ত্রের মাইট্রাল ভালভের ত্রুটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাসে একবার একটি ইনজেকশন নিতেন।’

নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এখন তাঁকে চার ধরনের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি সব সময় নাইট্রোগ্লিসারিন সঙ্গে রাখছেন। পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্রের পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।’

মাদুরোর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন ফ্লোরেস। ২০১৩ সালে স্বামী নিকোলাস মাদুরো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে মাদুরো প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেও তিনি ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলার (পিএসইউভি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। চার বছরেরও বেশি সময় দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

বাইরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার পর ফ্লোরেসের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গত ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি সম্ভবত হালকা ধরনের হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

মাইট্রাল ভালভের ত্রুটির জন্য তিনি যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এটি হৃদ্‌যন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যা। আইনজীবীদের দাবি, কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে ফ্লোরেস ওই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় মাসিক ইনজেকশনটি আর পাননি।

এর পরিবর্তে তাকে স্বল্পমাত্রার অ্যাসপিরিন, কোলেস্টেরল কমানোর একটি ওষুধ, ডিলটিয়াজেম এবং বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকেরা তাকে হৃদযন্ত্রের একটি চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এমন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য ফ্লোরেসের ‘উপযুক্ত পরিবেশে পর্যাপ্ত সময়’ প্রয়োজন হবে বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার আদালতে দেওয়া আবেদনে অবশ্য স্বীকার করা হয়েছে যে চিকিৎসকদের কাছ থেকে ফ্লোরেস ‘উন্নত চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন’—এটি তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে আইনজীবীদের যুক্তি, এ ধরনের চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ কোনো কারাগার বা আটককেন্দ্রে নেই।

আইনজীবীরা ফ্লোরেসকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন আটককেন্দ্র থেকে সরিয়ে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত এলাকার একটি বাসায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। আগামী জুনে ওই আদালত এলাকায় মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

গৃহবন্দি থাকলে ফ্লোরেসকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে। আদালত ও ফেডারেল কৌঁসুলিদের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই কেবল তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। আদালতে দেওয়া আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাসায় ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হবে এবং ফোনালাপ রেকর্ড করা হবে। ফ্লোরেসের আবেদনের বিষয়ে বিচারক অ্যালভিন কে. হেলারস্টাইন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

গুগল নিউজে আমাদের প্রকাশিত খবর পেতে এখানে ক্লিক করুন...

খেলাধুলা, তথ্য-প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সহ সর্বশেষ খবর

Stay up-to-date with the latest news from Bangladesh. Our comprehensive coverage includes politics, business, sports, and culture. Get breaking news, analysis, and commentary on the issues that matter most to Bangladeshis and the international community.

Bangladesh is a country located in South Asia and is home to a diverse population of over 160 million people. It has a rich cultural heritage and a rapidly growing economy. News from Bangladesh covers a wide range of topics, including politics, economics, social issues, culture, and more. The country has made significant progress in recent years in areas such as poverty reduction, education, and healthcare. However, it still faces challenges such as corruption and environmental degradation. Bangladeshi news sources cover both local and international news to keep the public informed about the latest developments and events.